শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

শুভ হোক নতুন বছর! বিদায় ২০২১...

জীবন থেকে চলে গেল আরেকটি বছর। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতিহাস হয়ে থাকবে ২০২১ সাল। শুরু হবে নতুন বছরের নতুন তারিখ গণনা। যদিও প্রাত্যহিক জীবনের খুব বেশি পরিবর্তন হয়তো হবে না। সবই চলবে আগের নিয়মে। সূর্য ওঠবে, পাখি ডাকবে। জীবন প্রবহমান থাকবে জীবনের নিয়মে। 


শুভ হোক নতুন বছর সবার জন্যে!

বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১

দেশ দেশান্তরে শিশু-শিক্ষার রকমফের

 তিনটি দেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে লেখা এই ধরনের বই বাংলা ভাষায় নেই বললেই চলেঅন্য দুই দেশ ছাড়াও বাংলাদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়ার সুযোগ আছে এই বইয়েএটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পৃথিবীর দুর্বলতম শিক্ষা-ব্যবস্থাগুলোর একটিএই বই পড়ে সেই ধারণা পোক্ত হওয়ার সম্ভবনা বাড়বে বৈ কমবে না

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর আরো দুটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কেও বলা আছে এই এক মলাটের ভিতরএশিয়ারই একটি দেশ জাপান, অন্যটি নেদারল্যান্ডস, ইউরোপ মহাদেশের একটি দেশনা, এই বইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কিত কোনো কল্প-কাহিনী ছাপা হয় নি, কিংবা বই পড়ে বা আন্তর্জাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লেখা কোনো বইও এটি নয়, প্রত্যেকে তাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষা-ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ করে দিয়েছেনতাঁরা নিজেরা দেখেছেন, জেনেছেন, উপলব্ধি করেছেন, সুবিধা-অসুবিধাকে অনুধাবণ করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরেছেনবিদেশে অনেকে যান, থাকেন বছরের পর বছর, নিজেরা পড়াশুনা করেন, নিজের সন্তানদের পড়াশুনার ব্যবস্থা করেন, কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেই সব অভিজ্ঞতা অন্যকে জানানোর কাজটি করে ওঠতে পারেন নানিজের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা এবং সেগুলো থেকে উত্তরণের পথ বাতলানোর কাজে অনেক ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি, সাহসের দরকার হয়এই সবগুলোর সম্মিলন হয় না বলে এই ধরনের কাজ খুব একটা চোখে পড়ে নাব্যক্তিগত হাজারো ব্যস্ততা, গবেষণার চাপ, পরিবার-পরিজনের দায়ভার ইত্যাদি সব সামলে এই ধরনের একটা প্রকাশনার জন্য এর সাথে যুক্ত সবাই ধন্যবাদ পেতেই পারেন 

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

প্রিয় জীবনানন্দ ও কিছু বিচ্ছিন্ন ভাবনা

''অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে ব’সে আছে
ভোরের দোয়েল পাখি– চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তুপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থেরা ক’রে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;

মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ দেখেছিলো;''

জীবনানন্দের কবিতা ইদানিং স্বপ্নে জাগরণে হানা দেয়। বিশেষ করে ‘রূপসী বাংলা’র কবিতাগুলো। এগুলো এমনিতেই ভীষণ প্রিয় ছিল, এখনো ভালোলাগার ভালোবাসার কবিতার তালিকা এগুলোর নাম ওপরের দিকে থাকবে। বাংলা কবিতার দুই দিকপাল রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ আজো মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কত কবিতাই তো পড়া হয়, ভালো লাগে, কিন্তু সবসময়ের সঙ্গী হয়ে থাকে দু’জন। রবীন্দ্রনাথের গীতবিতানকেও আমি কবিতার মতই পড়ি। প্রেম, প্রকৃতি, ঈশ্বরচেতনা ছাড়াও আধুনিকতা, রোমান্টিসিজম, নিহিলিজম, পরাবাস্তবতা সবকিছুর সংশ্লেষ এই দুই কবির কবিতায় কী চমৎকারভাবে উৎকীর্ণ! কবিতার মধ্যে বুঁদ হয়ে থাকার মধ্যে আছে এক ধরনের অনিঃশেষ ও অনির্বচনীয় সুখ। আর সেটাকে উপলব্ধির মধ্যে হয়তো পাওয়া হয়ে যায় অমৃতের স্বাদ। কবিতা তো ভাষা, কল্পনা, বাস্তবতা, পরাবাস্তবতা ইত্যাদির অদ্ভূত মিশেল। ভাষার সাথে আছে রূপক, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, অনুপ্রাস ছাড়াও বহুবিধ অলঙ্কার। চিন্তা, কল্পনা ও বোধির জগতে আলোড়ন তোলার এই যে অপূর্ব প্রচেষ্টা তার সাথে আর কিসের তুলনা চলে!

 

মে ২০২০, করোনাক্রান্তিকাল

বনশ্রী, ঢাকা

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

ফেলে আসা বাড়ি - কে হায় হৃদয় খুঁড়ে - ১


জনৈক দাদাকে

প্রিয় দাদা,

প্রণাম ও শুভেচ্ছা জানবেন। ফেইসবুকে আপনার একটি মন্তব্যের আলোকে এই লেখা। ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ আছে, এবং আপনার প্রত্যুত্তর আমাকে অনেক উৎসাহ যোগাবে।  

আপনি একসময় বেশ লেখালেখি করতেন।  আমার অনুরোধ আবার শুরু করুন, আমাদের বাড়ি, আমাদের অতীত-ইতিহাস, আমাদের অতীতের এবং বর্তমানের যাপিত জীবন -  এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। আজ সারা পৃথিবীতে আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি, আমাদের কথা আমরা না বললে, আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা এবং আমরা নিজেরাই ইতিহাসের পাতা থেকে একদিন বিলীন হয়ে যাবো। নতুন প্রজন্ম কোনো দিশা খুঁজে পাবে না। সবার সম্মিলিত স্মৃতির মাধ্যমে আমরা আমাদের অতীত ইতিহাসকে ভাবীকালের জন্য রেখে যেতে পারবো।

ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা!!

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

চুলের সৌন্দর্য্য

আফ্রিকার নারীদের চুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য আমাকে আকৃষ্ট করতো বেশ। কুচকানো চুল হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্যদেশের নারীরা চুলের রক্ষণাবেক্ষনে যে রকম সুবিধা পেত সেটা এই অঞ্চলের নারীদের জন্য একটু ঝামেলাপূর্ণ ছিল। যার দরুণ অনেক নারী চুল ফেলে দিয়ে পরচুলা পড়ার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌন্দর্য্য খুঁজে নিত। এশিয়ান নারীদের কালো ঘন লম্বা চুলের প্রতি তাদের একধরণের আকর্ষণ কাজ করে বলে মনে হয়েছে, কেননা কয়েকজন আফ্রিকীয় নারী কথা প্রসঙ্গে এই অভিমত জানিয়েছিল। যাইহোক তাদের অন্যরকম কুচকানো ঘন চুলকে তারা অনেকেই বিসর্জন না দিয়ে বরং সেগুলোকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনে সবিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শন করে আসছে। আজকের প্রসঙ্গ সেই আফ্রিকীয় নারীর বিশেষ কারুকার্ষমণ্ডিত কুন্তল তথা চুল প্রসঙ্গে। 

চুলকে আকর্ষণীয় করার জন্য আফ্রিকার  ......

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

আঁকিবুঁকি ২

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম তখন। কী একটা বিশেষ কাজে আন্দরকিল্লা এসেছি। আকাশে গনগনে সূর্য। তপ্ত দুপুর। আন্দরকিল্লা মোড়টা ধ’রে চেরাগির দিকে আসছিলাম বোধহয়। রোদের আঁচে আমার মুখ কিছুটা লালচে আকার ধারণ করেছে। ঘামে ভেজা শার্ট আর গেঞ্জি শরীর জুড়ে লেপ্টে আছে। সেই রকম এক দুপুরে অস্থির আমি আন্দরকিল্লার কোনো একটি দোকানে ঢুকে আর্ট-খাতা কিনি একটা; সাথে জলরঙের একটা বক্স আর এক ডজন প্যাস্টেল রঙ। ইজেল-টিজেল কেনার টাকা ছিল না, ঝামেলাও নিতে চাই নি। মোটা আর্ট-পেপারে বাঁধানো একটা খাতা। ভাবলাম এটা হোক আমার ছবি আঁকার খাতা। ব্যাগের মধ্যে রাখা যাবে, আর যখনি মন চাইবে আঁকিবুকিতে সাদা পাতাগুলোকে রঙিন করে দেব।

সেই খাতাটি আজো রয়ে গেছে কালের সাক্ষী হয়ে। খাতার পৃষ্টাগুলো মেলে ধরলে সেগুলো প্রজাপতি হয়ে আমার চারপাশে উড়তে থাকে। লাল-নীল-সাদা-কালো-সবুজ-হলুদের কত শত বিচিত্র রঙের প্রজাপতি। প্রজাপতিরা ওড়ে আর অদ্ভুত বিচিত্র সব কারণে আমার মনটা হারিয়ে যায় দূর অতীতে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

আনিসুজ্জামানঃ কীর্তিমানের মৃত্যু নেই


আনিসুজ্জামান মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। বাংলাদেশে এই ধরনের মানুষকে অপছন্দ করে এরূপ মানুষের সংখ্যা কম নয়। তদুপরি, আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাকে অশ্রদ্ধা করবে – এটাও অপ্রত্যাশিত ছিল না। এ-ধরনের কোনো একজন মানুষকে সবাই ভালোবাসবে আমি এটা আশাও করি না। আনিসুজ্জামান প্রগতির কথা বলতেন। আর প্রগতি থেকে পিছনের দিকে যেতে চাওয়া, প্রতিক্রিয়াশীলতাকে ভালোবাসে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা তো দিন দিন বাড়ছে।

মায়ের গল্প


মায়ের হাসিমাখা উচ্ছল মুখ খুব বেশি মনে পড়ে না। মায়ের আনন্দের, উৎসবের উপলক্ষ্য হত খুবই সীমিত। কিংবা উৎসব আনন্দে মায়েরা হয়ে যেত কর্মী, অন্যদের আরামকে শতভাগ নিশ্চিত করার মধ্যেই তারা সুখ বা আনন্দ খুঁজে নিত বা নিতে হত! শুধু বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় আমার মা কিশোরী হয়ে যেতেন, বালিকা-উচ্ছলতা মাকে পেয়ে বসত। মার সেই সুখী সুখী মুখ আমি কখনো ভুলবো না। দু-তিন মাইলের গ্রামীণ মেঠো রাস্তা পায়ে ডিঙিয়ে যখন বাপের বাড়ির দরোজায় পৌঁছতেন, মায়ের সেই হাসিমুখ আরো দ্বিগুণ প্রসারিত হত। কোলে এক সন্তান, আর অন্য হাতে আরেক সন্তানকে ধরে রেখে দীর্ঘপথ হাঁটার পরেও মাকে ক্লান্তি বিশেষ স্পর্শ করত না। মা যখন তার বাবার বাড়ি এসে পৌঁছতেন, মনে হত স্বর্গের সদর দরজায় পা রেখেছেন। কিংবা কে জানে, স্বর্গের দ্বারেও মা এত সুখী ও আনন্দিত হতেন কি না! এখনও বাপের বাড়ির কথা শুনলে মা-র চোখ-মুখ খুশিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মা-র বাবা-মা তো বটে, ভাইরাও কেউ এই ধরাধামে নেই এখন। কিন্তু 

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

লেক ভিক্টোরিয়া - শীতল হ্রদের শান্ত হাওয়া

লেক ভিক্টোরিয়া। ভিক্টোরিয়া হ্রদ। কতশতবার এই লেকের পাড়ে এসে বসেছি তার ইয়ত্তা নেইকতগুলো বিষণ্ণ বিকেল, মনোমুগ্ধকর মূহুর্ত এই লেকের জল-হাওয়ার সাথে মিশে গিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সে হিসাব আজ আর কেউ করবে না উগান্ডার বাতাস বেশ বিশুদ্ধ, আবহাওয়া সারা বছর বেশ চমৎকার, সবসময় একটা বসন্ত বসন্ত ভাব। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে ক্লান্ত আমরা উগান্ডায় এসে ছুটি কাটাতাম, আর উগান্ডা মানে আমার কাছে লেক ভিক্টোরিয়া। লেকের দু-তীরের ঠাণ্ডা হাওয়া আমাদের কর্মক্লান্ত, গৃহকাতর মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিত। উগান্ডায় আমাদের ডেরা ছিল বাংলাহাউজ, এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে বেশ কাছে, আর আমদের এই ডেরার বেশ কাছেই ছিল লেক ভিক্টোরিয়া। রুম থেকে বের হলেই - অন্য কোন স্থানে বিশেষ কোনো কাজে না গেলে- লেক ভিক্টরিয়াই ছিল আমাদের অন্যতম গন্তব্য। মিনিট দশেক হাঁটলে লেকের নিকটতম পাড়ে আমরা পৌঁছে যেতাম। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

বইয়ে অঙ্কন ১

নতুন বই, বইয়ের গন্ধের প্রেমে পড়ে নি, বইপড়ুয়াদের মধ্যে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা কমই আছে। যারা অনেক বই সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত তাদেরকে দেখেছি, নিজের নামের একটি সিলমোহর বানিয়ে নিতে। বইয়ে নিজের নাম লেখার মধ্যে একেকজনের একেক স্টাইল দেখেছি। কেউ বইয়ের শুরুর কোনো পৃষ্ঠার কোণায় শুধু নাম, কেউ শুধু নাম-তারিখ, কেউ গ্রাম-শহর সব কিছুর ঠিকানা লিখে বইয়ের একমাত্র মালিক বলে নিজেকে দাবি করা ইত্যাদি বিচিত্র অভ্যাসের সমাহার লক্ষ করেছি। এই গৌরচন্দ্রিকার কারণ নতুন বই কিনে নাম লেখার ক্ষেত্রে আমার নিজেরও কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল, সেটা তুলে ধরা। আমি নাম লিখতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের ডিপার্টমেন্ট আর তারিখ উল্লেখ করতাম। অনেকসময় যে এলাকায় থাকতাম তার নামও লিখতাম। বাংলা ইংরেজি দুটি তারিখও লেখার অভ্যাস ছিল। তবে ব্যতিক্রমি একটা অভ্যাস ছিল, বইয়ের সাদা পৃষ্টায় ছবি আঁকা বা অলঙ্করণ করা ইত্যাদি। অন্য কেউ যদি এই অভ্যাসের দাস হয়ে থাকেন জানিয়ে কৃতার্থ করবেন। 


ধর্ম, মানবতা ও অন্যান্য

ছবির ভিনদেশী মানুষগুলোর জাতীয়তা ফরাসি। সত্তরের কাছাকাছি বয়স অনেকের। চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে অনেক দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে যাচ্ছেন। সবাই ফ্রান্সের ভিন্ন ভিন্ন লোকালয়ের বাসিন্দা, কাছাকাছি এলাকার যদিও। আত্মীয়তার বন্ধনের বা রক্তের বন্ধনে কেউ কারো সাথে জড়িত নয়। তবে হ্যাঁ, আত্মার বন্ধন আছে সবার সাথে সবার। ওদের প্রধানতম উদ্দেশ্য মানব সেবা, জীবনের এই বয়সে এসেও একটাই প্রচেষ্টা মানুষ হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের ব্যাপৃত রাখা।
এই করোনা কালে ওদের নিয়ে লেখার একটা কারণ আছে। ওরা এসেছিল বাংলাদেশে মাস চারেক আগে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ওদের প্রজন্মের লোকেরা সাধারণত ইংরেজি জানে না বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, সেই সুবাদে আমি ওদের সাথে দোভাষী ও অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলাম, ঘুরে বেড়িয়েছিলাম দিন দশেক ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

ফেলে আসা চৈত্রদিন, ফেলে আসা নববর্ষ


মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের শৈশবই অর্থাৎ শৈশবের স্মৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এত গ্লানি, এত জরা, এত হাহাকার-কষ্ট চারিদিকে, কিন্তু একবার বাল্যে কিংবা কৈশোরে ডুব দিলেই নিমেষে সব উধাও। স্মৃতিরা ডানা ঝাপটাতে থাকে, কান পাতলে শুনি সেই সব শব্দ! চোখ বন্ধ করলেই দেখতে থাকি সবুজ কচি নিমপাতার ডাল, নরোম নধর গায়ে বাটা-কাঁচা-হলুদের আলতো পরশ। চোখে ভাসে সেই সব দিন - খুব সকালে যখন ভোরের আলোর আবছায়া ভাবটা কেটে যায়, কিন্তু চৈত্রের সূর্য তখনো কড়া রোদের আঁচ নিয়ে হাজির হয় না, ঠিক সেই সময় বাড়ির সব ছোটরা উঠোনে পাটি বিছিয়ে ফুলের ঝুড়ি আর সুঁই-সুতো নিয়ে পা ছড়িয়ে বসে আছে। ছোটরা উপলক্ষ্য পেলেই হত, সেটা তাদের কাছে আসতেই না আসতেই হয়ে যেত উৎসব। চৈত্র-সংক্রান্তিতে মালা গাঁথার জন্য আগের দিন সারা বাড়ি, পাড়া তন্ন তন্ন করে যোগাড় করতাম বিভিন্ন ধরনের ফুল। সেটাও আমাদের কাছে ছিল ‘ফুল-তুলনি’ উৎসব! ভোর রাতে আধো অন্ধকারে বেশ দূরের একটি বাড়িতে যেতাম ফুল তুলতে, সৌখিন বাড়িওয়ালার ছিল চমৎকার ফুল-বাগান, আমরা 

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

গোরেম ন্যাশনাল পার্ক

আজ আমি এমন এক স্থানের কথা যে স্থানে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য মুগ্ধতা!
এখানে আকাশ স্বচ্ছ, নীলাভ! আকশে ভেসে বেড়ায় সাদা সাদ তুলোট মেঘ। সকাল হতে না হতে গায়ে এসে সোনা ঝরা রোদ! রোদের তাপে তীক্ষ্ণতা আছে, বেশিক্ষণ রোদের নিচে থাকলে মনে হবে গায়ে কেউ চিমটি কাটছে। মন আকুপাঁকু করতে থাকে একটু ছায়ার আশায়। আশে-পাশে গাছ পেয়ে গেলে মন্দ না। গাছের নিচে দাড়ালে রোদের আঁচ হয়তো অত অনুভব হবে না, কেননা হালকা কিন্তু বিশুদ্ধ বাতাসে বুক ও মন হালকা হবে, এবং আপনার মনে হবে এই স্থানকে  ভালোবাসা যায়, এখানে বেড়ানো অতটা অস্বস্তির নয়!

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

ভালোবাসার আফ্রিকা















বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যেত আফ্রিকার বাতাসে।
রৌদ্র ঝলমলে দিনে আকাশে ভেসে বেড়াত সাদা সাদা মেঘ,
মেঘেদের গায়ে লেগে থাকত বিচিত্র আকৃতির বাহার!

এখানে আকাশকে ঢেকে দাঁড়িয়ে থাকতো না কিম্ভূত ও অশ্লীল কোনো দীর্ঘ দালান।
আকাশ আর মেঘ দেখার জন্য কোনো প্রচেষ্টার হতোনা প্রয়োজন,
বরং আকাশ এসে চোখের সামনে মেলে ধরত তার চোখ ধাঁধানো নীলাভ রূপ!
মেঘ আর মেঘের পালক চোখের পাতা গলে হারিয়ে যেত অক্ষি-গোলকে!

আমার দেখা ইস্তাম্বুল




ইস্তাম্বুল শহরের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছলতা আছে। উদ্দাম আর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর একটা শহর এটি। শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। ছিমছিম শহর। বিশেষ চাকচিক্য নেই। আকাশ ছোঁয়া দালান নেই। অসম্ভব ব্যস্ত আর আর জীবিকার জন্য প্রাণপাত করার প্রতিযোগিতা নেই। আধুনিকতা আর প্রাচীনের এক অন্যরকম মিশেল আছে। আছে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের  সম্মিলন। ধর্ম আছে, ধর্মহীনতাও আছে। উদারতা যেমন আছে তেমনি গোঁড়ামিও খুজে পাওয়া সম্ভব। আমি যেই সময় কালের কথা সেটা ২০১২ সালের কথা। এর মধ্যে অনেক পরিবর্তনের কথা বৈশ্বিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে কানে এসে যায়।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর কর্মস্থল থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য ইউরোপ বিশেষ করে ফ্রান্সে বেড়াতে যাওয়ার জন্য একদিন খুব সকালে বুনিয়া বিমান বন্দর থেকে উগান্ডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। উগান্ডার বিমানবন্দর 'এন্টেবি' আমার কর্মস্থল বুনিয়া থেকে খুব দূরে নয়। বিমানে চেপে বসার খুব অল্প সময়ের মধ্যে আনুমানিক ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এন্টেবিতে এসে পৌঁছে যায়। এখান থেকে মূলত আমার ফ্রান্সে যাওয়ার বিমানে আরোহণ করতে হবে। তার্কিশ এয়ারের একটি বিমানে ফ্রান্সের উদ্দেশ্য চেপে বসি। প্যারিসে শার্ল দ্য গলে আমার চুড়ান্ত গন্তব্য হলেও মধ্যখানে যাত্রাবিরতির জন্য ইস্তাম্বুল বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। বাংলাদেশিদের জন্য ইস্তাবুলে আগে থেকে ভিসা নিতে হয় না, অফিসিয়াল পার্সপোটধারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক ভিসা নিয়ে তুরস্কে ঘুরতে পারবেন। আর বিশেষ পূর্বের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম তুরস্ক ভ্রমণের। 


মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০

করোনার দিনগুলি - ১

করোনার ( কোভিড-১৯) সংক্রমনে সারা পৃথিবী তটস্থ। 
চীনের উহানের পর ইতালি-র অবস্থা খুবই করুণ! গতকাল ২১শে মার্চ ২০২০ একদিনেই মারা গিয়েছে ৭২৯ জন। এরি মধ্যে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পৃথিবীর প্রায় ১৮০ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসের নির্মম ও হীমশীতল স্পর্শ। বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা কী তা বলা খুবই কঠিন। আজ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭, মৃতের সংখ্যা ২ এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৫ জন। এই পরিসংখ্যানে ও তথ্যে সাধারণ জনগণের অনেকের বিশ্বাস নেই। ডাক্তার, সেবিকা ও স্বাস্থ্য-কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের ভীতির মধ্যে দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রোগীর চিকিৎসা প্রদানের সময় তাদের প্রয়োজন পিপিই (Personal Protective Equipment) যা তাদেরকে সংক্রামিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রায় হাসপাতালে সেগুলো খুবই অপ্রতুল। বাংলাদেশের জন্য একটা বিভীষিকাময় ভবিষ্যত যে অপেক্ষা করছে তা বলাই বাহুল্য।

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

শিক্ষা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রবন্ধের আলোকে আমার ব্যক্তিগত অভিমত ও প্রবন্ধটির পাঠ আলোচনা


ভুমিকাঃ
লেখাটি বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত ধারা বিবরণী বাংলাদেশের আজকের শিক্ষা-ব্যবস্থার সাথে অতীতের যোগসূত্রতা নির্মাণ এই লেখাটির বিশেষত্ব ব্রিটিশ আমলের আগে থেকে এই অঞ্চলের শিক্ষা-ব্যবস্থার ধরন এবং ব্রিটিশদের রাজত্বকালে আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থায় যে-সব নতুনত্ব এসেছিল সে ব্যাপারে একটা পরিচ্ছন্ন ধারণা পাওয়া যাবে মুসলমানেরা কীভাবে ব্রিটিশ আমলের নতুনতর শিক্ষা-ব্যবস্থার প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল লেখক তা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যে ধরনের শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রয়োজন ছিল, সেগুলো কেন তারা ঠিক মত আয়ত্ত করতে পারে নি তার কিছু ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা লেখক দিয়েছেন

শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯

আমার শিক্ষাজীবন


‘আজি এ প্রভাতে রবির কর....
একদিন খুব সকালে, মাঘ মাস হবে হয়তো, বেশ জাঁকিয়ে বসা শীতের সকালে বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পাশের একটি তিন তলা দালানের প্রাথমিক বিদ্যাপীঠে, যেটা আদতে ‘সাইক্লোন সেন্টার’ হিসেবে কাজে লাগে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময়েছোট্ট সেই দালান আমার কাছে রহস্যময় ও অনতিক্রম্য স্থাপনা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল, দৈত্যকার সেই দালানের প্রতিটা সিড়ি অতিক্রম করতে আমার ছোট্ট পদযুগলের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল, বাবার ধ’রে রাখা শক্ত হাত আমার সেই ভীরু পায়ে যোগাচ্ছিল অপরিসীম শক্তিএই তিন তলা দালানটি আমার প্রথম বিদ্যালয়এখানে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু 
যাইহোক, অবশেষে দোতলার প্রধান শিক্ষকের ঘরে প্রবেশ করলামদুরু দুরু বুকে এক অদ্ভূত ভয় বিরাজ করছিল, কিন্তু মনের অলিন্দে অনুভূত হচ্ছিল অন্যরকম ভালোলাগাওআমি আজ থেকে এই স্কুলের ছাত্র হবো, হঠাৎ অনুভব করলাম আজ থেকে আমি আর ছোট্টটি থাকবো না, একা একা স্কুলে আসবো, হাতে থাকবে বই, পকেটে কলম, আচড়ানো চুল আর পরিপাটি পোশাকে আমাকে নিশ্চয় খুব সুন্দর লাগবেআমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবো, অনেক বড় হবো, বাবা-মা আমার সাফল্যে নিশ্চয় অনেক খুশি হবে
‘অ- তে অজগর আসছে তেড়ে....’
যদিও বাড়িতে বর্ণমালার পাঠ নিয়েছিলাম, নামতা শিখেছিলাম কিছু, গুণতে পারতাম, যোগ-বিয়োগ করতে পারতাম ছোট ছোট সংখ্যা দিয়ে, অনেকাংশে সেইগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটত বিদ্যালয়ের পাঠেসুর করে নামতা পড়তাম স্কুল ছুটির পরপরই, সবাইকে লাইন করে দাঁড় ক’রে দিত স্কুলের ছোট্ট মাঠে, আর আমারা গলা উঁচুতে তুলে সেই নামতায় সুর মেলাতামসকাল বেলায় জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, আর স্কুল শেষে সুর ক’রে নামতা পড়ার স্মৃতি ‘তিন একে তিন, তিন দু গুণে ছয়’ আজো মানসপটে ভেসে ওঠেবর্ণমালার বই সম্ভবত সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শ লিপি’ পড়েছিলাম আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণ পরিচয়’ এর সাথে পরিচয় হয়েছিলতখন অনেকের ঘরে শিশুদের পাঠের জন্য এই বইগুলো থাকতযাইহোক আমি স্কুলে শিশু শ্রেণীর জন্য রচিত ‘আমার বই’ দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠ শুরু করেছিলাম 

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

সাধন আর হবে না, সময় যে যাচ্ছে চলে

ব্লগে ঢুকি মাঝে মধ্যে। কখনো এক মাস, কখনো মাস দুয়েক পর।
ভাবি কত কি লেখার ছিল। সেই ২০১১ সালে শুরু করেছিলাম। এত বছরে এই ব্লগ কত সমৃদ্ধ হতে পারত। কত ধরনের লেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্ধ্যা সময়ের প্রতিভূ হয়ে গেলাম। কালি নেই কলমে, মগজের ভাবনাগুলোতেও ধরেছে জং। ফেবু-তেও ছেড়ে দিয়েছে লেখা। চারপাশে এত অস্থিরতা, অনিময়, অরাজকতা। মন বসাতে পারি না। ব্যক্তিগত ঝামেলা আর অনভ্যাসে বিদ্যাও পাচ্ছে হ্রাস। দীর্ঘসময় ধরে, ধারাবাহিকভাবে কোন কিছু করা আজকাল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। শুধু পরিকল্পনা আর ভাবনাতেই সব থেমে আছি। কার্যে প্রতিফলিত হচ্ছে না।