ভ্রমণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভ্রমণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

লেক ভিক্টোরিয়া - শীতল হ্রদের শান্ত হাওয়া

লেক ভিক্টোরিয়া। ভিক্টোরিয়া হ্রদ। কতশতবার এই লেকের পাড়ে এসে বসেছি তার ইয়ত্তা নেইকতগুলো বিষণ্ণ বিকেল, মনোমুগ্ধকর মূহুর্ত এই লেকের জল-হাওয়ার সাথে মিশে গিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সে হিসাব আজ আর কেউ করবে না উগান্ডার বাতাস বেশ বিশুদ্ধ, আবহাওয়া সারা বছর বেশ চমৎকার, সবসময় একটা বসন্ত বসন্ত ভাব। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে ক্লান্ত আমরা উগান্ডায় এসে ছুটি কাটাতাম, আর উগান্ডা মানে আমার কাছে লেক ভিক্টোরিয়া। লেকের দু-তীরের ঠাণ্ডা হাওয়া আমাদের কর্মক্লান্ত, গৃহকাতর মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিত। উগান্ডায় আমাদের ডেরা ছিল বাংলাহাউজ, এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে বেশ কাছে, আর আমদের এই ডেরার বেশ কাছেই ছিল লেক ভিক্টোরিয়া। রুম থেকে বের হলেই - অন্য কোন স্থানে বিশেষ কোনো কাজে না গেলে- লেক ভিক্টরিয়াই ছিল আমাদের অন্যতম গন্তব্য। মিনিট দশেক হাঁটলে লেকের নিকটতম পাড়ে আমরা পৌঁছে যেতাম। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

ধর্ম, মানবতা ও অন্যান্য

ছবির ভিনদেশী মানুষগুলোর জাতীয়তা ফরাসি। সত্তরের কাছাকাছি বয়স অনেকের। চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে অনেক দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে যাচ্ছেন। সবাই ফ্রান্সের ভিন্ন ভিন্ন লোকালয়ের বাসিন্দা, কাছাকাছি এলাকার যদিও। আত্মীয়তার বন্ধনের বা রক্তের বন্ধনে কেউ কারো সাথে জড়িত নয়। তবে হ্যাঁ, আত্মার বন্ধন আছে সবার সাথে সবার। ওদের প্রধানতম উদ্দেশ্য মানব সেবা, জীবনের এই বয়সে এসেও একটাই প্রচেষ্টা মানুষ হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের ব্যাপৃত রাখা।
এই করোনা কালে ওদের নিয়ে লেখার একটা কারণ আছে। ওরা এসেছিল বাংলাদেশে মাস চারেক আগে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ওদের প্রজন্মের লোকেরা সাধারণত ইংরেজি জানে না বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, সেই সুবাদে আমি ওদের সাথে দোভাষী ও অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলাম, ঘুরে বেড়িয়েছিলাম দিন দশেক ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

গোরেম ন্যাশনাল পার্ক

আজ আমি এমন এক স্থানের কথা যে স্থানে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য মুগ্ধতা!
এখানে আকাশ স্বচ্ছ, নীলাভ! আকশে ভেসে বেড়ায় সাদা সাদ তুলোট মেঘ। সকাল হতে না হতে গায়ে এসে সোনা ঝরা রোদ! রোদের তাপে তীক্ষ্ণতা আছে, বেশিক্ষণ রোদের নিচে থাকলে মনে হবে গায়ে কেউ চিমটি কাটছে। মন আকুপাঁকু করতে থাকে একটু ছায়ার আশায়। আশে-পাশে গাছ পেয়ে গেলে মন্দ না। গাছের নিচে দাড়ালে রোদের আঁচ হয়তো অত অনুভব হবে না, কেননা হালকা কিন্তু বিশুদ্ধ বাতাসে বুক ও মন হালকা হবে, এবং আপনার মনে হবে এই স্থানকে  ভালোবাসা যায়, এখানে বেড়ানো অতটা অস্বস্তির নয়!

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

ভালোবাসার আফ্রিকা















বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যেত আফ্রিকার বাতাসে।
রৌদ্র ঝলমলে দিনে আকাশে ভেসে বেড়াত সাদা সাদা মেঘ,
মেঘেদের গায়ে লেগে থাকত বিচিত্র আকৃতির বাহার!

এখানে আকাশকে ঢেকে দাঁড়িয়ে থাকতো না কিম্ভূত ও অশ্লীল কোনো দীর্ঘ দালান।
আকাশ আর মেঘ দেখার জন্য কোনো প্রচেষ্টার হতোনা প্রয়োজন,
বরং আকাশ এসে চোখের সামনে মেলে ধরত তার চোখ ধাঁধানো নীলাভ রূপ!
মেঘ আর মেঘের পালক চোখের পাতা গলে হারিয়ে যেত অক্ষি-গোলকে!

আমার দেখা ইস্তাম্বুল




ইস্তাম্বুল শহরের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছলতা আছে। উদ্দাম আর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর একটা শহর এটি। শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। ছিমছিম শহর। বিশেষ চাকচিক্য নেই। আকাশ ছোঁয়া দালান নেই। অসম্ভব ব্যস্ত আর আর জীবিকার জন্য প্রাণপাত করার প্রতিযোগিতা নেই। আধুনিকতা আর প্রাচীনের এক অন্যরকম মিশেল আছে। আছে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের  সম্মিলন। ধর্ম আছে, ধর্মহীনতাও আছে। উদারতা যেমন আছে তেমনি গোঁড়ামিও খুজে পাওয়া সম্ভব। আমি যেই সময় কালের কথা সেটা ২০১২ সালের কথা। এর মধ্যে অনেক পরিবর্তনের কথা বৈশ্বিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে কানে এসে যায়।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর কর্মস্থল থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য ইউরোপ বিশেষ করে ফ্রান্সে বেড়াতে যাওয়ার জন্য একদিন খুব সকালে বুনিয়া বিমান বন্দর থেকে উগান্ডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। উগান্ডার বিমানবন্দর 'এন্টেবি' আমার কর্মস্থল বুনিয়া থেকে খুব দূরে নয়। বিমানে চেপে বসার খুব অল্প সময়ের মধ্যে আনুমানিক ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এন্টেবিতে এসে পৌঁছে যায়। এখান থেকে মূলত আমার ফ্রান্সে যাওয়ার বিমানে আরোহণ করতে হবে। তার্কিশ এয়ারের একটি বিমানে ফ্রান্সের উদ্দেশ্য চেপে বসি। প্যারিসে শার্ল দ্য গলে আমার চুড়ান্ত গন্তব্য হলেও মধ্যখানে যাত্রাবিরতির জন্য ইস্তাম্বুল বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। বাংলাদেশিদের জন্য ইস্তাবুলে আগে থেকে ভিসা নিতে হয় না, অফিসিয়াল পার্সপোটধারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক ভিসা নিয়ে তুরস্কে ঘুরতে পারবেন। আর বিশেষ পূর্বের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম তুরস্ক ভ্রমণের। 


বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব-২)

নীল নদের উৎস সন্ধানে
মিশরের নীল নদ সম্পর্কে অবগত নেই এমন লোক খুব বিরল। এক অভূতপূর্ব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এই নদীর তীর ঘেঁষে। সেই মিশরীয় সভ্যতা আজো এই পৃথিবীর মানুষের কাছে এক বিস্ময়। নীল নদ সম্পর্কে আমার যেটুকু জ্ঞান তার সবটুকু স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় আহরিত, তাও ছিল অসম্পূর্ণ বা বলা যেতে পারে ভাসা ভাসা।পরীক্ষা পাশের জন্য পড়েছিলাম; আর যে পড়াশুনা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য, সেটার প্রতি একধরনের বৈরীভাব পৃথিবীর অধিকাংশ ছাত্রের মত আমারও ছিল! এই নদীর উৎপত্তি স্থল যে উগান্ডায় সে তথ্য জানলাম যেদিন উগান্ডার মাটিতে আমার প্রথম পা পড়ল

উগান্ডায় এসে নীল নদের উৎস না দেখে যাওয়া একটা বড় বোকামি হবে সাব্যস্ত করলাম। নীল নদকে মনে করা হয় পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী এর আয়তন প্রায় ৬৬৫০ কিমি। এই নদীর জল হাওয়া পেয়ে ধন্য সুদান, বুরুন্ডি, কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া কেনিয়া সহ উল্লিখিত দুটি দেশ। পৃথিবীর অন্য কোনো নদী প্রায় নয়টি দেশের সংস্পর্শে এসেছে কিনা আমার জানা নেই

ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব ১)

উগান্ডা। আফ্রিকার মুক্তা বা পার্ল অব আফ্রিকা নীল নদের উৎসের দেশ ও। এর রাজধানী কাম্পালা; সাত পাহাড়ের শহর। তবে এই দেশটির পরিচিতি পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে যে ব্যক্তি অপরিসীম ভূমিকা রাখেন তিনি জলপাই রঙের শাসক ইদি আমিন। রাষ্ট্রনায়ক এক ছিলেন বটে। তার শাসনামলে প্রায় লাখ লোক প্রাণ হারায়। কারো কারো মতে এই সংখ্যা লাখের মত। তার স্বৈর-শাসনের ইতিহাস আজো অত্র অঞ্চলের মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে বিরাজমান

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

আমস্টারডামে ২৪ ঘণ্টা

মাদাম ত্যুসোর মিউজিয়ামে আইনস্টাইনের মোমোর মূর্তির সাথে।
বেলজিয়াম থেকে জার্মানি যাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘেন্ট রেল স্টেশনে গেলাম টিকেট করতে। কিন্তু হঠাৎ মাথায় কি একটা ভূত চাপলো টিকেট ক'রে ফেললাম আমস্টারডাম-এর। ঘেন্ট শহর থেকে আমস্টারডাম দূরত্ব কম, তদুপরি আমি কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম দিগ্বিদিক। ফলত যখন যেদিকে মন চায় সেদিকে ছুটে যায়।

যাই হোক আমস্টারডাম এসে যখন পৌঁছালাম তখন ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা ছুঁই ছুঁই। সারা শহরে মানুষের অভাবনীয় ভীড়। আমি মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। ট্রেনে আমার পাশে বসা এক ডাচ এর সাথে কথা হয়েছিল। সে বলেছিলে উইকএন্ডে এই শহর পর্যটক অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। আমি শুক্রবার রাতে এসে পৌঁছেছি এখানে, বুঝলাম কেন এত মানুষ চারপাশে। ভয় পেয়ে গেলাম আবাসন সংকট নিয়ে। হোস্টেলে সিট না পেলে কপালে খারাবি আছে। কয়েকটা হোস্টেল ঘুরার পর অবশেষে একটা হোস্টেলে একটা সিট পেলাম শুধু এক রাতের জন্য। মানে কাল সকালে সেটা ছেড়ে দিতে হবে। ভাড়াও গুনতে হলো বেশ বেশি। তদুপরি এটা একটা কমন রুম, ছয় জনের মত শোয়ার ব্যবস্থা। বাঙ্কার সিস্টেম। আমার বাঙ্কারের নিচে দেখলাম দুই পাশে দুই জার্মান মেয়ে শুয়ে আছে। ভেবেছিলাম রাতে একটু হাঁটতে বের হব। ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তা এরি মধ্যে আমার অনেক শক্তি শুষে নিয়েছে। খুব সকালে ঘুরতে বের হব ভেবে আপাতত কিছু খেয়ে ঘুমের জগতে নিজেকে সঁপে দেয়াটা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক হবে বলে সিদ্ধান্ত উপনীত হলাম। 

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৫

কঙ্গো-কে যেমন দেখেছি-১

চারিদিকে সবুজ। নিষ্কলুষ প্রকৃতি। দূষণের কোনো বালাই নেই। আফ্রিকার গ্রামগুলোর ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকলে মনে হবে এটা আমাদের চিরচেনা পৃথিবী থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহে ভুলে চ'লে এসেছি ব'লেও মনে হতে পারি। মানুষজন গরীব, ভারি গরীব। ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়েঘরে ৭/৮ জন সদস্যের পরিবার অবলীলায় বসবাস করে যায় বছরের পর বছর। একই জায়গায় খায়, ঘুমায়, সন্তানাদি উৎপাদন করে ফি বছর! এ-এক অদ্ভূত সহজ-সরল-আদিম জীবন।

সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধ-প্রবণতা তুলনামূলক কম। কেউ অন্যায় করলে গ্রাম্য-মাতব্বর বা গ্রাম-প্রধানের শাস্তি অবলীলায় মেনে নেয়। সেটা হতে পারে ৩০ দিনের জেল কিংবা ৬০ দিনের। কিন্তু জেলখানা দেখে আমার হাসি পায়। আমি শহরের কথা বলছি না, বলছি গণ্ডগ্রামগুলোর কথা, আফ্রিকাকে দেখতে হলে বুঝতে হলে এই গ্রামগুলো, মানুষগুলো-কে অবশ্যই গুনতে হবে। পরিত্যক্ত একটি পুরনো বাড়ীতে যেটি কলোনিয়াল যুগের কোনো আবাসস্থল ছিল, এখন বসবাসের খুব একটা উপযোগী নেই, সেই রকম একটি একতলা পুরনো বিল্ডিং-কে তারা জেল-খানা বানিয়েছে। কোনো পাইক-পেয়াদা নেই, নিরাপত্তা রক্ষী নেই। যাকে শাস্তি দেয়া হবে সে সেখানে নিঃসঙ্গভাবে সময় কাটাবে, শাস্তির মেয়াদ পূরণ হলে আবার স্বাভাবিক জীবন-যাপন শুরু করবে। এখানে থেকে সে বেরুতে পারবে না, কোথাও যেতে পারবে না। সময় মত খাবার দিয়ে যাবে পরিবারের সদস্যরা।

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

জাম্বিয়াঃ জলীয় ধোয়ার গর্জনে মুখরিত সদা যে ভূমি

যাত্রা হলো শুরু
বুনিয়া কঙ্গো-র একটি ছোট্ট উপশহর। যেদিন প্রথম এখানে পা রাখি, আমার সাথে সাথে চুনিয়া-র কথা মনে পড়ে যায়। রফিক আজাদের একটি কবিতায় চুনিয়ার কথা আছে।  ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ যদিও এই শহর চুনিয়ার মত নিষ্কলুষ নেই, রক্তে ভেসে গিয়েছিল এই আধো-মলিন উপশহরের অলি-গলি-পথ। কান পাতলে আজো শোনা যাবে অযুত মৃতপ্রাণের দীর্ঘশ্বাস এই শহরের আকাশে-বাতাসে।

সেই বুনিয়া থেকে শুরু করলাম আমাদের যাত্রা। চারজনের একটি দল এক নির্মল সকালে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। দু-চোখে নতুন কিছু দেখার আনন্দ। বুনিয়া থেকে এন্টেবি, তারপর সেখান থেকে গোমা, গোমা থেকে কালেমি, কামিনা আর সর্বশেষ গন্তব্য লুবুম্বাসি। বলে রাখা ভালো সুন্দর নামের শহরগুলো দেখতেও ভারি সুন্দর। বুনিয়া থেকে এন্টেবি পর্যন্ত আমাদের ভ্রমণ নিষ্কণ্টক ছিল। সেখান থেকে গোমা পর্যন্তও কোনো গোল বাধেনি। শুধু মাঝখানে বিমান পরিবর্তন করার জন্য কিছুসময়ের জন্য নিতে হয়েছিল যাত্রা-বিরতি। 

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৫

গণচীনের নতুন প্রজন্ম

নি চিয়াও শান মা মিংজ? (কী নাম তোমার ?) দিয়ে শুরু করতাম আমাদের আলাপচারিতা। চীনের শিশু-কিশোররা একটু লাজুক হলেও ভিনদেশি কাউকে দেখে দূরে সরে যেত না। ইংরেজি ভাষা জানা থাকলে তারা বরং আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে চাইত। যারা ইংরেজি জানতো না তাদের সাথে আমি চীনাভাষা দিয়ে শুরু করলেও আমাদের কথোপকথন বেশি দূর আগাতো না, কারণ আমার চীনা ভাষার জ্ঞান খুব যৎসামান্য এবং যেটুকু ছিল সেটুকুর উচ্চারণও ওদের কাছে একটু কম বোধগম্য হতো। ফলে দু-চার মিনিটের মধ্যে দু-জনেই ক্লান্ত হয়ে 'জাই জিয়েন' (বিদায়) ব'লে কেটে পড়তাম! তবে ইংরেজি জানাদের সাথে এক-আধটু ভাব হয়ে যেত। তাদের সাথে আরো অনেকক্ষণ বাৎচিত করা যেত। তারা অনেক কিছু শেয়ার করত। জানতে চাইতো অনেক কিছু। একটা উৎসুক্য কাজ করত সবসময় ওদের মধ্যে। দেখে ভারী ভালো লাগতো আমার।

ঘেন্ট এর পথে পথে

 ঘেন্ট বেলজিয়াম এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ইস্ট ফ্লান্ডার্স প্রদেশ-এর রাজধানী ও এবং অন্যতম বৃহৎ শহর হিসেবে সমধিক পরিচিত। শহরটির খ্যাতির আরো একটি কারণ হলো এর বন্দর এবং বিখ্যাত ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। মধ্যযুগে উত্তর ইউরোপের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও প্রভাবশালী শহর হিসেবে এর খ্যাতি ছিল।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৫

মহাসুখ মন্দির বা স্বর্ণ-মন্দির

 বান্দরবানের সবুজ পাহাড়-অরণ্যের সৌন্দর্যে যখন আমরা আপ্লুত ও মুগ্ধ আমাদেরকে আরো মুগ্ধ করে দিয়ে চোখের সামনে অপূর্ব স্বর্ণকান্তি রূপ নিয়ে হাজির হলো 'মহাসুখ' বা 'বৌদ্ধ ধাতু জাদি মন্দির'। বান্দরবান সদর থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বালাঘাট-এর একটা ছোট পাহাড় চুড়ায় এর অবস্থান। চারপাশে সবুজের সমারোহ,  তার মাঝে এই সোনালী মন্দির এক অদ্ভূত আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল।আমরা যখন ট্যাক্সি থেকে নামলাম, উঁচু-তে তাকিয়ে দেখছিলাম সেই সোনালী আভার বিচ্ছুরণ। 
মায়ানমারের জনৈক শিল্পীর ডিজাইনে এই মন্দিরের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে। শুধু স্থাপত্য নির্মাণ শৈলী নয়, বিভিন্ন রকমের বৌদ্ধ মূর্তি, জাতক কাহিনী বর্ণনার জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্মান-শৈলী ও ভাস্কর্য ব্যবহৃত হয়েছে- তা যে-কোনো শিল্প-রসিক-কে ভালো লাগায় প্লাবিত করবে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি


আফ্রিকা-বাসের বিশেষ করে কঙ্গো-বাসের সময় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল যে জিনিসটি সেটা হলো সেখানকার আবহাওয়া। এত অসাধারণ ভালো-লাগার প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব বেশি জায়গায় মিলবে না। চীনের কুনমিং এ-ধরনের পরিবেশ পেয়েছিলাম, এ-শহরটিকে চির বসন্তের শহর নামে আখ্যায়িত করা হয়। বুনিয়া বা ইতুরি কিংবা আরো ব্যাপকভাবে বললে ওরিয়েন্টাল প্রদেশ-কে চির-বসন্তের নামে আখ্যায়িত করার তথ্য কোথাও পায় নি। যদিও আবহাওয়া তথাকথিত চিরবসন্তের স্থানগুলোর চেয়ে কোনোভাবেই অশ্রেয়তর বলা যাবে না। 
বই-পুস্তকে ঐ অঞ্চলের জলবায়ু বা আবহাওয়া সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সে-সব তথ্য ঘাটার সুযোগ হয় নি, কিংবা তেমন দরকারও বোধ করি নি। টানা তিন বছর এক এলাকায় বাস করার কারণে সেখানকার আবহাওয়া জানার জন্য বইয়ের তথ্যের খুব দরকার আছে বলে মনে হয় নি। তবে জলবায়ুর যে বৈশ্বিক পরিবর্তন প্রতিনয়ত পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে আমার দেয়া তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা হয়তো বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। কাজেই রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করতে চাইলে আমার বলা কথাগুলোকে ‘২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যকার সময়ে ইতুরি অঞ্চলের আবহাওয়াঃ একজন প্রত্যক্ষদর্শী-র বিবরণ’ হিসেবে সাব্যস্ত করলে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবো।

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫

তুরস্কের কার্পেট-শিল্প

সাতদিনের একটা প্যাকেজ-ট্যুর নিয়ে কাপাডোকিয়া গিয়েছিলাম।ইস্তানবুল থেকে প্রায় ৭/৮ ঘন্টার বাস জার্নি। বাস ভ্রমণটা ভালোই হয়েছিল। তুরস্কের রাস্তাঘাট ভালো। উন্নতমানের বাস আছে। কাপাডোকিয়ায় যখন পৌঁছলাম তখন সকাল। অদ্ভুত ভালোলাগায় মন আচ্ছন্ন। মন বলছে একটা চমৎকার ভ্রমণ আমার অপেক্ষায় আছে।

ভ্রমণটা বেশ মনে রাখার মত হয়েছিল। অনেকগুলো জায়গা ঘুরে দেখেছিলাম। ভ্রমণ কোম্পানিটি বেশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের গাইড-টিও ছিলেন বেশ ভালো। কাছাকাছি জায়গায় আমরা বেশকিছু প্রাচীন নিদর্শন ঘুরে দেখি।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫

পাহাড় আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে

হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত। দেশে টানা কয়েকমাসের অবরোধ চলছিল। আন্ত-জেলা যোগাযোগ-ব্যবস্থা কার্যত অচল। আমি আফ্রিকা থেকে দেশে এসে গৃহবন্দি। তথাপি এই দুর্যোগের মধ্যে কীভাবে যেন বিয়েটা করে ফেললাম! এইবার তো ডাবল বন্দী! মন আঁকুপাঁকু করছিল। কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
অবশেষে বিএনপি-জামাতের অবরোধ শিথিল হলো কী একটা কারণে যেন। ভাবলাম এই সুযোগ। বেরিয়ে পড়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। অনেক ভেবচিন্তে দেখলাম এই মুহুর্তে ভ্রমণের জন্য বান্দরবান হতে পারে আদর্শ জায়গা। বউকে আধাঘন্টা সময় দিলাম, জানি দু-ঘন্টা লাগাবে। কিন্তু এক ঘণ্টা সময় দিলে তো চার ঘণ্টা লাগাতো!

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৫

ছবিব্লগঃ নতরদাম ক্যাথেদ্রাল, প্যারিস, ফ্রান্স



ছবিব্লগঃ ইস্তানবুলের পথে পথে

 

ছবিব্লগঃ ল্যুভর মিউজিয়ামে একদিন