প্রবাস-জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবাস-জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

আমার দেখা ইস্তাম্বুল




ইস্তাম্বুল শহরের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছলতা আছে। উদ্দাম আর প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর একটা শহর এটি। শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। ছিমছিম শহর। বিশেষ চাকচিক্য নেই। আকাশ ছোঁয়া দালান নেই। অসম্ভব ব্যস্ত আর আর জীবিকার জন্য প্রাণপাত করার প্রতিযোগিতা নেই। আধুনিকতা আর প্রাচীনের এক অন্যরকম মিশেল আছে। আছে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের  সম্মিলন। ধর্ম আছে, ধর্মহীনতাও আছে। উদারতা যেমন আছে তেমনি গোঁড়ামিও খুজে পাওয়া সম্ভব। আমি যেই সময় কালের কথা সেটা ২০১২ সালের কথা। এর মধ্যে অনেক পরিবর্তনের কথা বৈশ্বিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে কানে এসে যায়।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর কর্মস্থল থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য ইউরোপ বিশেষ করে ফ্রান্সে বেড়াতে যাওয়ার জন্য একদিন খুব সকালে বুনিয়া বিমান বন্দর থেকে উগান্ডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। উগান্ডার বিমানবন্দর 'এন্টেবি' আমার কর্মস্থল বুনিয়া থেকে খুব দূরে নয়। বিমানে চেপে বসার খুব অল্প সময়ের মধ্যে আনুমানিক ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এন্টেবিতে এসে পৌঁছে যায়। এখান থেকে মূলত আমার ফ্রান্সে যাওয়ার বিমানে আরোহণ করতে হবে। তার্কিশ এয়ারের একটি বিমানে ফ্রান্সের উদ্দেশ্য চেপে বসি। প্যারিসে শার্ল দ্য গলে আমার চুড়ান্ত গন্তব্য হলেও মধ্যখানে যাত্রাবিরতির জন্য ইস্তাম্বুল বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। বাংলাদেশিদের জন্য ইস্তাবুলে আগে থেকে ভিসা নিতে হয় না, অফিসিয়াল পার্সপোটধারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক ভিসা নিয়ে তুরস্কে ঘুরতে পারবেন। আর বিশেষ পূর্বের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম তুরস্ক ভ্রমণের। 


বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব-২)

নীল নদের উৎস সন্ধানে
মিশরের নীল নদ সম্পর্কে অবগত নেই এমন লোক খুব বিরল। এক অভূতপূর্ব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এই নদীর তীর ঘেঁষে। সেই মিশরীয় সভ্যতা আজো এই পৃথিবীর মানুষের কাছে এক বিস্ময়। নীল নদ সম্পর্কে আমার যেটুকু জ্ঞান তার সবটুকু স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় আহরিত, তাও ছিল অসম্পূর্ণ বা বলা যেতে পারে ভাসা ভাসা।পরীক্ষা পাশের জন্য পড়েছিলাম; আর যে পড়াশুনা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য, সেটার প্রতি একধরনের বৈরীভাব পৃথিবীর অধিকাংশ ছাত্রের মত আমারও ছিল! এই নদীর উৎপত্তি স্থল যে উগান্ডায় সে তথ্য জানলাম যেদিন উগান্ডার মাটিতে আমার প্রথম পা পড়ল

উগান্ডায় এসে নীল নদের উৎস না দেখে যাওয়া একটা বড় বোকামি হবে সাব্যস্ত করলাম। নীল নদকে মনে করা হয় পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী এর আয়তন প্রায় ৬৬৫০ কিমি। এই নদীর জল হাওয়া পেয়ে ধন্য সুদান, বুরুন্ডি, কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া কেনিয়া সহ উল্লিখিত দুটি দেশ। পৃথিবীর অন্য কোনো নদী প্রায় নয়টি দেশের সংস্পর্শে এসেছে কিনা আমার জানা নেই

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৫

কঙ্গো-কে যেমন দেখেছি-১

চারিদিকে সবুজ। নিষ্কলুষ প্রকৃতি। দূষণের কোনো বালাই নেই। আফ্রিকার গ্রামগুলোর ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকলে মনে হবে এটা আমাদের চিরচেনা পৃথিবী থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহে ভুলে চ'লে এসেছি ব'লেও মনে হতে পারি। মানুষজন গরীব, ভারি গরীব। ছোট্ট ছোট্ট কুঁড়েঘরে ৭/৮ জন সদস্যের পরিবার অবলীলায় বসবাস করে যায় বছরের পর বছর। একই জায়গায় খায়, ঘুমায়, সন্তানাদি উৎপাদন করে ফি বছর! এ-এক অদ্ভূত সহজ-সরল-আদিম জীবন।

সাধারণ মানুষের মধ্যে অপরাধ-প্রবণতা তুলনামূলক কম। কেউ অন্যায় করলে গ্রাম্য-মাতব্বর বা গ্রাম-প্রধানের শাস্তি অবলীলায় মেনে নেয়। সেটা হতে পারে ৩০ দিনের জেল কিংবা ৬০ দিনের। কিন্তু জেলখানা দেখে আমার হাসি পায়। আমি শহরের কথা বলছি না, বলছি গণ্ডগ্রামগুলোর কথা, আফ্রিকাকে দেখতে হলে বুঝতে হলে এই গ্রামগুলো, মানুষগুলো-কে অবশ্যই গুনতে হবে। পরিত্যক্ত একটি পুরনো বাড়ীতে যেটি কলোনিয়াল যুগের কোনো আবাসস্থল ছিল, এখন বসবাসের খুব একটা উপযোগী নেই, সেই রকম একটি একতলা পুরনো বিল্ডিং-কে তারা জেল-খানা বানিয়েছে। কোনো পাইক-পেয়াদা নেই, নিরাপত্তা রক্ষী নেই। যাকে শাস্তি দেয়া হবে সে সেখানে নিঃসঙ্গভাবে সময় কাটাবে, শাস্তির মেয়াদ পূরণ হলে আবার স্বাভাবিক জীবন-যাপন শুরু করবে। এখানে থেকে সে বেরুতে পারবে না, কোথাও যেতে পারবে না। সময় মত খাবার দিয়ে যাবে পরিবারের সদস্যরা।

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

জাম্বিয়াঃ জলীয় ধোয়ার গর্জনে মুখরিত সদা যে ভূমি

যাত্রা হলো শুরু
বুনিয়া কঙ্গো-র একটি ছোট্ট উপশহর। যেদিন প্রথম এখানে পা রাখি, আমার সাথে সাথে চুনিয়া-র কথা মনে পড়ে যায়। রফিক আজাদের একটি কবিতায় চুনিয়ার কথা আছে।  ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ যদিও এই শহর চুনিয়ার মত নিষ্কলুষ নেই, রক্তে ভেসে গিয়েছিল এই আধো-মলিন উপশহরের অলি-গলি-পথ। কান পাতলে আজো শোনা যাবে অযুত মৃতপ্রাণের দীর্ঘশ্বাস এই শহরের আকাশে-বাতাসে।

সেই বুনিয়া থেকে শুরু করলাম আমাদের যাত্রা। চারজনের একটি দল এক নির্মল সকালে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। দু-চোখে নতুন কিছু দেখার আনন্দ। বুনিয়া থেকে এন্টেবি, তারপর সেখান থেকে গোমা, গোমা থেকে কালেমি, কামিনা আর সর্বশেষ গন্তব্য লুবুম্বাসি। বলে রাখা ভালো সুন্দর নামের শহরগুলো দেখতেও ভারি সুন্দর। বুনিয়া থেকে এন্টেবি পর্যন্ত আমাদের ভ্রমণ নিষ্কণ্টক ছিল। সেখান থেকে গোমা পর্যন্তও কোনো গোল বাধেনি। শুধু মাঝখানে বিমান পরিবর্তন করার জন্য কিছুসময়ের জন্য নিতে হয়েছিল যাত্রা-বিরতি। 

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি


আফ্রিকা-বাসের বিশেষ করে কঙ্গো-বাসের সময় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল যে জিনিসটি সেটা হলো সেখানকার আবহাওয়া। এত অসাধারণ ভালো-লাগার প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব বেশি জায়গায় মিলবে না। চীনের কুনমিং এ-ধরনের পরিবেশ পেয়েছিলাম, এ-শহরটিকে চির বসন্তের শহর নামে আখ্যায়িত করা হয়। বুনিয়া বা ইতুরি কিংবা আরো ব্যাপকভাবে বললে ওরিয়েন্টাল প্রদেশ-কে চির-বসন্তের নামে আখ্যায়িত করার তথ্য কোথাও পায় নি। যদিও আবহাওয়া তথাকথিত চিরবসন্তের স্থানগুলোর চেয়ে কোনোভাবেই অশ্রেয়তর বলা যাবে না। 
বই-পুস্তকে ঐ অঞ্চলের জলবায়ু বা আবহাওয়া সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সে-সব তথ্য ঘাটার সুযোগ হয় নি, কিংবা তেমন দরকারও বোধ করি নি। টানা তিন বছর এক এলাকায় বাস করার কারণে সেখানকার আবহাওয়া জানার জন্য বইয়ের তথ্যের খুব দরকার আছে বলে মনে হয় নি। তবে জলবায়ুর যে বৈশ্বিক পরিবর্তন প্রতিনয়ত পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে আমার দেয়া তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা হয়তো বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। কাজেই রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করতে চাইলে আমার বলা কথাগুলোকে ‘২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যকার সময়ে ইতুরি অঞ্চলের আবহাওয়াঃ একজন প্রত্যক্ষদর্শী-র বিবরণ’ হিসেবে সাব্যস্ত করলে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবো।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

লেক ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি

লেক ভিক্টো্রিয়া
 আমার সবচেয়ে প্রিয় লেকসমূহের কথা যদি বলতে হয় তাহলে সর্বাগ্রে নাম আসবে উগান্ডায় অবস্থিত 'লেক ভিক্টোরিয়া-র।' আমার একান্ত কাটানো অসংখ্য স্মৃতি যেমন আছে তেমনি দলবেঁধে হৈ-হুল্লোর করার ঘটনাও বিরল নয়।উগান্ডায় সাধারণত আমরা ছুটি বা আর-এন-আর-এ (R&R: Rest and Recreation) আসতাম। কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত, একঘেঁয়েমি তাড়ানোর জন্য আমাদের প্রিয় স্থান ছিল উগান্ডা। উগান্ডা-তে যুদ্ধ নাই, আমাদের দৈনন্দিন মিশন-সম্পর্কিত দুর্ভাবনা নাই, মিটিং নাই, কনফারেন্স নাই, পিটি নাই, গেমস নাই; বলা যেতে পারে যা আছে একান্ত নিজের কিছু ব্যক্তিগত সময়।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

দুর্গাপূজা ২০১২

খুব ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এবারের পূজার সময়টা কাটাতে হলো। গত তিন বছর  যাবত প্রবাসী হলেও প্রতি বছর এই সময়টা দেশে কাটানোর সুযোগ পেতাম। শরতের নীলাকাশ, সাদা ধবধবে কাশফুল, শিউলি ফুলের সুবাসভরা  ভোর আর  ঢাকঢোলের আওয়াজে দেবি দূর্গার পদভারে কম্পিত চারপাশ আমার মনের মধ্যে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দিত, ছোট বেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যেত খুব।