ব্যক্তিগত কাসুন্দি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যক্তিগত কাসুন্দি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

আঁকিবুঁকি ২

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম তখন। কী একটা বিশেষ কাজে আন্দরকিল্লা এসেছি। আকাশে গনগনে সূর্য। তপ্ত দুপুর। আন্দরকিল্লা মোড়টা ধ’রে চেরাগির দিকে আসছিলাম বোধহয়। রোদের আঁচে আমার মুখ কিছুটা লালচে আকার ধারণ করেছে। ঘামে ভেজা শার্ট আর গেঞ্জি শরীর জুড়ে লেপ্টে আছে। সেই রকম এক দুপুরে অস্থির আমি আন্দরকিল্লার কোনো একটি দোকানে ঢুকে আর্ট-খাতা কিনি একটা; সাথে জলরঙের একটা বক্স আর এক ডজন প্যাস্টেল রঙ। ইজেল-টিজেল কেনার টাকা ছিল না, ঝামেলাও নিতে চাই নি। মোটা আর্ট-পেপারে বাঁধানো একটা খাতা। ভাবলাম এটা হোক আমার ছবি আঁকার খাতা। ব্যাগের মধ্যে রাখা যাবে, আর যখনি মন চাইবে আঁকিবুকিতে সাদা পাতাগুলোকে রঙিন করে দেব।

সেই খাতাটি আজো রয়ে গেছে কালের সাক্ষী হয়ে। খাতার পৃষ্টাগুলো মেলে ধরলে সেগুলো প্রজাপতি হয়ে আমার চারপাশে উড়তে থাকে। লাল-নীল-সাদা-কালো-সবুজ-হলুদের কত শত বিচিত্র রঙের প্রজাপতি। প্রজাপতিরা ওড়ে আর অদ্ভুত বিচিত্র সব কারণে আমার মনটা হারিয়ে যায় দূর অতীতে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

আনিসুজ্জামানঃ কীর্তিমানের মৃত্যু নেই


আনিসুজ্জামান মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। বাংলাদেশে এই ধরনের মানুষকে অপছন্দ করে এরূপ মানুষের সংখ্যা কম নয়। তদুপরি, আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাকে অশ্রদ্ধা করবে – এটাও অপ্রত্যাশিত ছিল না। এ-ধরনের কোনো একজন মানুষকে সবাই ভালোবাসবে আমি এটা আশাও করি না। আনিসুজ্জামান প্রগতির কথা বলতেন। আর প্রগতি থেকে পিছনের দিকে যেতে চাওয়া, প্রতিক্রিয়াশীলতাকে ভালোবাসে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা তো দিন দিন বাড়ছে।

মায়ের গল্প


মায়ের হাসিমাখা উচ্ছল মুখ খুব বেশি মনে পড়ে না। মায়ের আনন্দের, উৎসবের উপলক্ষ্য হত খুবই সীমিত। কিংবা উৎসব আনন্দে মায়েরা হয়ে যেত কর্মী, অন্যদের আরামকে শতভাগ নিশ্চিত করার মধ্যেই তারা সুখ বা আনন্দ খুঁজে নিত বা নিতে হত! শুধু বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় আমার মা কিশোরী হয়ে যেতেন, বালিকা-উচ্ছলতা মাকে পেয়ে বসত। মার সেই সুখী সুখী মুখ আমি কখনো ভুলবো না। দু-তিন মাইলের গ্রামীণ মেঠো রাস্তা পায়ে ডিঙিয়ে যখন বাপের বাড়ির দরোজায় পৌঁছতেন, মায়ের সেই হাসিমুখ আরো দ্বিগুণ প্রসারিত হত। কোলে এক সন্তান, আর অন্য হাতে আরেক সন্তানকে ধরে রেখে দীর্ঘপথ হাঁটার পরেও মাকে ক্লান্তি বিশেষ স্পর্শ করত না। মা যখন তার বাবার বাড়ি এসে পৌঁছতেন, মনে হত স্বর্গের সদর দরজায় পা রেখেছেন। কিংবা কে জানে, স্বর্গের দ্বারেও মা এত সুখী ও আনন্দিত হতেন কি না! এখনও বাপের বাড়ির কথা শুনলে মা-র চোখ-মুখ খুশিতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। মা-র বাবা-মা তো বটে, ভাইরাও কেউ এই ধরাধামে নেই এখন। কিন্তু 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

বইয়ে অঙ্কন ১

নতুন বই, বইয়ের গন্ধের প্রেমে পড়ে নি, বইপড়ুয়াদের মধ্যে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা কমই আছে। যারা অনেক বই সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত তাদেরকে দেখেছি, নিজের নামের একটি সিলমোহর বানিয়ে নিতে। বইয়ে নিজের নাম লেখার মধ্যে একেকজনের একেক স্টাইল দেখেছি। কেউ বইয়ের শুরুর কোনো পৃষ্ঠার কোণায় শুধু নাম, কেউ শুধু নাম-তারিখ, কেউ গ্রাম-শহর সব কিছুর ঠিকানা লিখে বইয়ের একমাত্র মালিক বলে নিজেকে দাবি করা ইত্যাদি বিচিত্র অভ্যাসের সমাহার লক্ষ করেছি। এই গৌরচন্দ্রিকার কারণ নতুন বই কিনে নাম লেখার ক্ষেত্রে আমার নিজেরও কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল, সেটা তুলে ধরা। আমি নাম লিখতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের ডিপার্টমেন্ট আর তারিখ উল্লেখ করতাম। অনেকসময় যে এলাকায় থাকতাম তার নামও লিখতাম। বাংলা ইংরেজি দুটি তারিখও লেখার অভ্যাস ছিল। তবে ব্যতিক্রমি একটা অভ্যাস ছিল, বইয়ের সাদা পৃষ্টায় ছবি আঁকা বা অলঙ্করণ করা ইত্যাদি। অন্য কেউ যদি এই অভ্যাসের দাস হয়ে থাকেন জানিয়ে কৃতার্থ করবেন। 


শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯

আমার শিক্ষাজীবন


‘আজি এ প্রভাতে রবির কর....
একদিন খুব সকালে, মাঘ মাস হবে হয়তো, বেশ জাঁকিয়ে বসা শীতের সকালে বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পাশের একটি তিন তলা দালানের প্রাথমিক বিদ্যাপীঠে, যেটা আদতে ‘সাইক্লোন সেন্টার’ হিসেবে কাজে লাগে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময়েছোট্ট সেই দালান আমার কাছে রহস্যময় ও অনতিক্রম্য স্থাপনা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল, দৈত্যকার সেই দালানের প্রতিটা সিড়ি অতিক্রম করতে আমার ছোট্ট পদযুগলের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল, বাবার ধ’রে রাখা শক্ত হাত আমার সেই ভীরু পায়ে যোগাচ্ছিল অপরিসীম শক্তিএই তিন তলা দালানটি আমার প্রথম বিদ্যালয়এখানে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু 
যাইহোক, অবশেষে দোতলার প্রধান শিক্ষকের ঘরে প্রবেশ করলামদুরু দুরু বুকে এক অদ্ভূত ভয় বিরাজ করছিল, কিন্তু মনের অলিন্দে অনুভূত হচ্ছিল অন্যরকম ভালোলাগাওআমি আজ থেকে এই স্কুলের ছাত্র হবো, হঠাৎ অনুভব করলাম আজ থেকে আমি আর ছোট্টটি থাকবো না, একা একা স্কুলে আসবো, হাতে থাকবে বই, পকেটে কলম, আচড়ানো চুল আর পরিপাটি পোশাকে আমাকে নিশ্চয় খুব সুন্দর লাগবেআমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবো, অনেক বড় হবো, বাবা-মা আমার সাফল্যে নিশ্চয় অনেক খুশি হবে
‘অ- তে অজগর আসছে তেড়ে....’
যদিও বাড়িতে বর্ণমালার পাঠ নিয়েছিলাম, নামতা শিখেছিলাম কিছু, গুণতে পারতাম, যোগ-বিয়োগ করতে পারতাম ছোট ছোট সংখ্যা দিয়ে, অনেকাংশে সেইগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটত বিদ্যালয়ের পাঠেসুর করে নামতা পড়তাম স্কুল ছুটির পরপরই, সবাইকে লাইন করে দাঁড় ক’রে দিত স্কুলের ছোট্ট মাঠে, আর আমারা গলা উঁচুতে তুলে সেই নামতায় সুর মেলাতামসকাল বেলায় জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, আর স্কুল শেষে সুর ক’রে নামতা পড়ার স্মৃতি ‘তিন একে তিন, তিন দু গুণে ছয়’ আজো মানসপটে ভেসে ওঠেবর্ণমালার বই সম্ভবত সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শ লিপি’ পড়েছিলাম আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণ পরিচয়’ এর সাথে পরিচয় হয়েছিলতখন অনেকের ঘরে শিশুদের পাঠের জন্য এই বইগুলো থাকতযাইহোক আমি স্কুলে শিশু শ্রেণীর জন্য রচিত ‘আমার বই’ দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠ শুরু করেছিলাম 

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

সাধন আর হবে না, সময় যে যাচ্ছে চলে

ব্লগে ঢুকি মাঝে মধ্যে। কখনো এক মাস, কখনো মাস দুয়েক পর।
ভাবি কত কি লেখার ছিল। সেই ২০১১ সালে শুরু করেছিলাম। এত বছরে এই ব্লগ কত সমৃদ্ধ হতে পারত। কত ধরনের লেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্ধ্যা সময়ের প্রতিভূ হয়ে গেলাম। কালি নেই কলমে, মগজের ভাবনাগুলোতেও ধরেছে জং। ফেবু-তেও ছেড়ে দিয়েছে লেখা। চারপাশে এত অস্থিরতা, অনিময়, অরাজকতা। মন বসাতে পারি না। ব্যক্তিগত ঝামেলা আর অনভ্যাসে বিদ্যাও পাচ্ছে হ্রাস। দীর্ঘসময় ধরে, ধারাবাহিকভাবে কোন কিছু করা আজকাল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। শুধু পরিকল্পনা আর ভাবনাতেই সব থেমে আছি। কার্যে প্রতিফলিত হচ্ছে না।


রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

জাম্বিয়াঃ জলীয় ধোয়ার গর্জনে মুখরিত সদা যে ভূমি

যাত্রা হলো শুরু
বুনিয়া কঙ্গো-র একটি ছোট্ট উপশহর। যেদিন প্রথম এখানে পা রাখি, আমার সাথে সাথে চুনিয়া-র কথা মনে পড়ে যায়। রফিক আজাদের একটি কবিতায় চুনিয়ার কথা আছে।  ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ যদিও এই শহর চুনিয়ার মত নিষ্কলুষ নেই, রক্তে ভেসে গিয়েছিল এই আধো-মলিন উপশহরের অলি-গলি-পথ। কান পাতলে আজো শোনা যাবে অযুত মৃতপ্রাণের দীর্ঘশ্বাস এই শহরের আকাশে-বাতাসে।

সেই বুনিয়া থেকে শুরু করলাম আমাদের যাত্রা। চারজনের একটি দল এক নির্মল সকালে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। দু-চোখে নতুন কিছু দেখার আনন্দ। বুনিয়া থেকে এন্টেবি, তারপর সেখান থেকে গোমা, গোমা থেকে কালেমি, কামিনা আর সর্বশেষ গন্তব্য লুবুম্বাসি। বলে রাখা ভালো সুন্দর নামের শহরগুলো দেখতেও ভারি সুন্দর। বুনিয়া থেকে এন্টেবি পর্যন্ত আমাদের ভ্রমণ নিষ্কণ্টক ছিল। সেখান থেকে গোমা পর্যন্তও কোনো গোল বাধেনি। শুধু মাঝখানে বিমান পরিবর্তন করার জন্য কিছুসময়ের জন্য নিতে হয়েছিল যাত্রা-বিরতি। 

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫

তুরস্কের কার্পেট-শিল্প

সাতদিনের একটা প্যাকেজ-ট্যুর নিয়ে কাপাডোকিয়া গিয়েছিলাম।ইস্তানবুল থেকে প্রায় ৭/৮ ঘন্টার বাস জার্নি। বাস ভ্রমণটা ভালোই হয়েছিল। তুরস্কের রাস্তাঘাট ভালো। উন্নতমানের বাস আছে। কাপাডোকিয়ায় যখন পৌঁছলাম তখন সকাল। অদ্ভুত ভালোলাগায় মন আচ্ছন্ন। মন বলছে একটা চমৎকার ভ্রমণ আমার অপেক্ষায় আছে।

ভ্রমণটা বেশ মনে রাখার মত হয়েছিল। অনেকগুলো জায়গা ঘুরে দেখেছিলাম। ভ্রমণ কোম্পানিটি বেশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের গাইড-টিও ছিলেন বেশ ভালো। কাছাকাছি জায়গায় আমরা বেশকিছু প্রাচীন নিদর্শন ঘুরে দেখি।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

লেক ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি

লেক ভিক্টো্রিয়া
 আমার সবচেয়ে প্রিয় লেকসমূহের কথা যদি বলতে হয় তাহলে সর্বাগ্রে নাম আসবে উগান্ডায় অবস্থিত 'লেক ভিক্টোরিয়া-র।' আমার একান্ত কাটানো অসংখ্য স্মৃতি যেমন আছে তেমনি দলবেঁধে হৈ-হুল্লোর করার ঘটনাও বিরল নয়।উগান্ডায় সাধারণত আমরা ছুটি বা আর-এন-আর-এ (R&R: Rest and Recreation) আসতাম। কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত, একঘেঁয়েমি তাড়ানোর জন্য আমাদের প্রিয় স্থান ছিল উগান্ডা। উগান্ডা-তে যুদ্ধ নাই, আমাদের দৈনন্দিন মিশন-সম্পর্কিত দুর্ভাবনা নাই, মিটিং নাই, কনফারেন্স নাই, পিটি নাই, গেমস নাই; বলা যেতে পারে যা আছে একান্ত নিজের কিছু ব্যক্তিগত সময়।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫

পাহাড় আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে

হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত। দেশে টানা কয়েকমাসের অবরোধ চলছিল। আন্ত-জেলা যোগাযোগ-ব্যবস্থা কার্যত অচল। আমি আফ্রিকা থেকে দেশে এসে গৃহবন্দি। তথাপি এই দুর্যোগের মধ্যে কীভাবে যেন বিয়েটা করে ফেললাম! এইবার তো ডাবল বন্দী! মন আঁকুপাঁকু করছিল। কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
অবশেষে বিএনপি-জামাতের অবরোধ শিথিল হলো কী একটা কারণে যেন। ভাবলাম এই সুযোগ। বেরিয়ে পড়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। অনেক ভেবচিন্তে দেখলাম এই মুহুর্তে ভ্রমণের জন্য বান্দরবান হতে পারে আদর্শ জায়গা। বউকে আধাঘন্টা সময় দিলাম, জানি দু-ঘন্টা লাগাবে। কিন্তু এক ঘণ্টা সময় দিলে তো চার ঘণ্টা লাগাতো!

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

একদিন ধরা খাওয়ার দিন.........

সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ। ২০১৪ সাল। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  কাতেড্রা ইন্ডেটেক্স চেয়ার-এ স্পেনিশ ভাষার ক্লাস করতে গেলাম। সিঁড়িতে এক জুনিয়র ভাই কাম বন্ধু-র সাথে দেখা। সেও স্পেনীয় ভাষা শেখে, শেখে চীনা ভাষাও। কিছুদিন চীনা ভাষার একটা পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সে জানালো রেজাল্ট হয়েছে।