বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

লেক ভিক্টোরিয়া - শীতল হ্রদের শান্ত হাওয়া

লেক ভিক্টোরিয়া। ভিক্টোরিয়া হ্রদ। কতশতবার এই লেকের পাড়ে এসে বসেছি তার ইয়ত্তা নেইকতগুলো বিষণ্ণ বিকেল, মনোমুগ্ধকর মূহুর্ত এই লেকের জল-হাওয়ার সাথে মিশে গিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সে হিসাব আজ আর কেউ করবে না উগান্ডার বাতাস বেশ বিশুদ্ধ, আবহাওয়া সারা বছর বেশ চমৎকার, সবসময় একটা বসন্ত বসন্ত ভাব। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে ক্লান্ত আমরা উগান্ডায় এসে ছুটি কাটাতাম, আর উগান্ডা মানে আমার কাছে লেক ভিক্টোরিয়া। লেকের দু-তীরের ঠাণ্ডা হাওয়া আমাদের কর্মক্লান্ত, গৃহকাতর মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিত। উগান্ডায় আমাদের ডেরা ছিল বাংলাহাউজ, এন্টেবি বিমানবন্দর থেকে বেশ কাছে, আর আমদের এই ডেরার বেশ কাছেই ছিল লেক ভিক্টোরিয়া। রুম থেকে বের হলেই - অন্য কোন স্থানে বিশেষ কোনো কাজে না গেলে- লেক ভিক্টরিয়াই ছিল আমাদের অন্যতম গন্তব্য। মিনিট দশেক হাঁটলে লেকের নিকটতম পাড়ে আমরা পৌঁছে যেতাম। 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

বইয়ে অঙ্কন ১

নতুন বই, বইয়ের গন্ধের প্রেমে পড়ে নি, বইপড়ুয়াদের মধ্যে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা কমই আছে। যারা অনেক বই সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত তাদেরকে দেখেছি, নিজের নামের একটি সিলমোহর বানিয়ে নিতে। বইয়ে নিজের নাম লেখার মধ্যে একেকজনের একেক স্টাইল দেখেছি। কেউ বইয়ের শুরুর কোনো পৃষ্ঠার কোণায় শুধু নাম, কেউ শুধু নাম-তারিখ, কেউ গ্রাম-শহর সব কিছুর ঠিকানা লিখে বইয়ের একমাত্র মালিক বলে নিজেকে দাবি করা ইত্যাদি বিচিত্র অভ্যাসের সমাহার লক্ষ করেছি। এই গৌরচন্দ্রিকার কারণ নতুন বই কিনে নাম লেখার ক্ষেত্রে আমার নিজেরও কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল, সেটা তুলে ধরা। আমি নাম লিখতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের ডিপার্টমেন্ট আর তারিখ উল্লেখ করতাম। অনেকসময় যে এলাকায় থাকতাম তার নামও লিখতাম। বাংলা ইংরেজি দুটি তারিখও লেখার অভ্যাস ছিল। তবে ব্যতিক্রমি একটা অভ্যাস ছিল, বইয়ের সাদা পৃষ্টায় ছবি আঁকা বা অলঙ্করণ করা ইত্যাদি। অন্য কেউ যদি এই অভ্যাসের দাস হয়ে থাকেন জানিয়ে কৃতার্থ করবেন। 


ধর্ম, মানবতা ও অন্যান্য

ছবির ভিনদেশী মানুষগুলোর জাতীয়তা ফরাসি। সত্তরের কাছাকাছি বয়স অনেকের। চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে অনেক দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে যাচ্ছেন। সবাই ফ্রান্সের ভিন্ন ভিন্ন লোকালয়ের বাসিন্দা, কাছাকাছি এলাকার যদিও। আত্মীয়তার বন্ধনের বা রক্তের বন্ধনে কেউ কারো সাথে জড়িত নয়। তবে হ্যাঁ, আত্মার বন্ধন আছে সবার সাথে সবার। ওদের প্রধানতম উদ্দেশ্য মানব সেবা, জীবনের এই বয়সে এসেও একটাই প্রচেষ্টা মানুষ হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের ব্যাপৃত রাখা।
এই করোনা কালে ওদের নিয়ে লেখার একটা কারণ আছে। ওরা এসেছিল বাংলাদেশে মাস চারেক আগে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ওদের প্রজন্মের লোকেরা সাধারণত ইংরেজি জানে না বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, সেই সুবাদে আমি ওদের সাথে দোভাষী ও অনুবাদক হিসেবে কাজ করেছিলাম, ঘুরে বেড়িয়েছিলাম দিন দশেক ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

ফেলে আসা চৈত্রদিন, ফেলে আসা নববর্ষ


মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের শৈশবই অর্থাৎ শৈশবের স্মৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এত গ্লানি, এত জরা, এত হাহাকার-কষ্ট চারিদিকে, কিন্তু একবার বাল্যে কিংবা কৈশোরে ডুব দিলেই নিমেষে সব উধাও। স্মৃতিরা ডানা ঝাপটাতে থাকে, কান পাতলে শুনি সেই সব শব্দ! চোখ বন্ধ করলেই দেখতে থাকি সবুজ কচি নিমপাতার ডাল, নরোম নধর গায়ে বাটা-কাঁচা-হলুদের আলতো পরশ। চোখে ভাসে সেই সব দিন - খুব সকালে যখন ভোরের আলোর আবছায়া ভাবটা কেটে যায়, কিন্তু চৈত্রের সূর্য তখনো কড়া রোদের আঁচ নিয়ে হাজির হয় না, ঠিক সেই সময় বাড়ির সব ছোটরা উঠোনে পাটি বিছিয়ে ফুলের ঝুড়ি আর সুঁই-সুতো নিয়ে পা ছড়িয়ে বসে আছে। ছোটরা উপলক্ষ্য পেলেই হত, সেটা তাদের কাছে আসতেই না আসতেই হয়ে যেত উৎসব। চৈত্র-সংক্রান্তিতে মালা গাঁথার জন্য আগের দিন সারা বাড়ি, পাড়া তন্ন তন্ন করে যোগাড় করতাম বিভিন্ন ধরনের ফুল। সেটাও আমাদের কাছে ছিল ‘ফুল-তুলনি’ উৎসব! ভোর রাতে আধো অন্ধকারে বেশ দূরের একটি বাড়িতে যেতাম ফুল তুলতে, সৌখিন বাড়িওয়ালার ছিল চমৎকার ফুল-বাগান, আমরা