শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯

আমার শিক্ষাজীবন


‘আজি এ প্রভাতে রবির কর....
একদিন খুব সকালে, মাঘ মাস হবে হয়তো, বেশ জাঁকিয়ে বসা শীতের সকালে বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পাশের একটি তিন তলা দালানের প্রাথমিক বিদ্যাপীঠে, যেটা আদতে ‘সাইক্লোন সেন্টার’ হিসেবে কাজে লাগে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময়েছোট্ট সেই দালান আমার কাছে রহস্যময় ও অনতিক্রম্য স্থাপনা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল, দৈত্যকার সেই দালানের প্রতিটা সিড়ি অতিক্রম করতে আমার ছোট্ট পদযুগলের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল, বাবার ধ’রে রাখা শক্ত হাত আমার সেই ভীরু পায়ে যোগাচ্ছিল অপরিসীম শক্তিএই তিন তলা দালানটি আমার প্রথম বিদ্যালয়এখানে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের শুরু 
যাইহোক, অবশেষে দোতলার প্রধান শিক্ষকের ঘরে প্রবেশ করলামদুরু দুরু বুকে এক অদ্ভূত ভয় বিরাজ করছিল, কিন্তু মনের অলিন্দে অনুভূত হচ্ছিল অন্যরকম ভালোলাগাওআমি আজ থেকে এই স্কুলের ছাত্র হবো, হঠাৎ অনুভব করলাম আজ থেকে আমি আর ছোট্টটি থাকবো না, একা একা স্কুলে আসবো, হাতে থাকবে বই, পকেটে কলম, আচড়ানো চুল আর পরিপাটি পোশাকে আমাকে নিশ্চয় খুব সুন্দর লাগবেআমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবো, অনেক বড় হবো, বাবা-মা আমার সাফল্যে নিশ্চয় অনেক খুশি হবে
‘অ- তে অজগর আসছে তেড়ে....’
যদিও বাড়িতে বর্ণমালার পাঠ নিয়েছিলাম, নামতা শিখেছিলাম কিছু, গুণতে পারতাম, যোগ-বিয়োগ করতে পারতাম ছোট ছোট সংখ্যা দিয়ে, অনেকাংশে সেইগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটত বিদ্যালয়ের পাঠেসুর করে নামতা পড়তাম স্কুল ছুটির পরপরই, সবাইকে লাইন করে দাঁড় ক’রে দিত স্কুলের ছোট্ট মাঠে, আর আমারা গলা উঁচুতে তুলে সেই নামতায় সুর মেলাতামসকাল বেলায় জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, আর স্কুল শেষে সুর ক’রে নামতা পড়ার স্মৃতি ‘তিন একে তিন, তিন দু গুণে ছয়’ আজো মানসপটে ভেসে ওঠেবর্ণমালার বই সম্ভবত সীতানাথ বসাকের ‘আদর্শ লিপি’ পড়েছিলাম আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণ পরিচয়’ এর সাথে পরিচয় হয়েছিলতখন অনেকের ঘরে শিশুদের পাঠের জন্য এই বইগুলো থাকতযাইহোক আমি স্কুলে শিশু শ্রেণীর জন্য রচিত ‘আমার বই’ দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠ শুরু করেছিলাম 

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

সাধন আর হবে না, সময় যে যাচ্ছে চলে

ব্লগে ঢুকি মাঝে মধ্যে। কখনো এক মাস, কখনো মাস দুয়েক পর।
ভাবি কত কি লেখার ছিল। সেই ২০১১ সালে শুরু করেছিলাম। এত বছরে এই ব্লগ কত সমৃদ্ধ হতে পারত। কত ধরনের লেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্ধ্যা সময়ের প্রতিভূ হয়ে গেলাম। কালি নেই কলমে, মগজের ভাবনাগুলোতেও ধরেছে জং। ফেবু-তেও ছেড়ে দিয়েছে লেখা। চারপাশে এত অস্থিরতা, অনিময়, অরাজকতা। মন বসাতে পারি না। ব্যক্তিগত ঝামেলা আর অনভ্যাসে বিদ্যাও পাচ্ছে হ্রাস। দীর্ঘসময় ধরে, ধারাবাহিকভাবে কোন কিছু করা আজকাল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। শুধু পরিকল্পনা আর ভাবনাতেই সব থেমে আছি। কার্যে প্রতিফলিত হচ্ছে না।