রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

Into the Wild - সম্প্রতি দেখা একটা অসাধারণ ছবি




 মানুষ আসলেই এই পৃথিবীর সব চেয়ে অবাক করা প্রাণী। বুদ্ধিতে তারা ছাড়িয়ে গেছে অন্য সব প্রাণীকে। বোকামিতে শ্রেষ্ঠতার উদাহরণ টানলে সেটাও মানুষের দিকে যাবে। নৃশংতায় এই মানুষের সমকক্ষও কেউ নেই, যেরকম ত্যাগে ও ভালোবাসায়ও তার সমকক্ষ পাওয়া দুষ্কর।

Into the Wild সর্বকালের সেরা মুভিগুলোর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। একটি সত্য কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই ছবির গল্প। সিনেমার পরিচালক Sean Penn প্রখ্যাত লেখক Jon Krakauer এর নন-ফিকশন উপন্যাস Into the Wild অবলম্বনে এই সিনেমাটি নির্মাণ করেন। Christopher McCandless আলাস্কার জনমানবহীন নির্জন প্রান্তরে যে নিঃসঙ্গ ভ্রমণে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন তার জীবনের শেষ কিছুদিন,  তাই ছিল এই বায়োগ্রাফিকাল উপন্যাসের বিষয়বস্তু। এক নিদারুণ অভিমানে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ সবকিছু থেকে নিজেকে বিযুক্ত করে আদিম ও অকৃত্রিম একটা জীবন বেছে নিতে চেয়েছিলেন। তাকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছিল ব্যক্তি মানুষের ভণ্ডামি, স্বার্থপরতা ও কৃত্রিম জীবনের বিরক্তি ও গ্লানি। তার বাবা-মার জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ছিল না, ডিভোর্স ছাড়াই তার বাবা বিয়ে করেছিলেন তার মাকে পূর্ববর্তী বিয়ের কথা গোপন রেখে। ক্রিস্টোফার Atlanta-র Emory University থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে গ্রাজুয়েশন করেন, তথাপি প্রথাগত সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্নকে বুকের মধ্যে লালন করার পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন এই ভবগুরে জীবন, আত্মবিধবংসী জীবন। ভ্রমণের ন্যূনতম প্রস্তুতি ছাড়াই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন, প্রয়োজন বোধ করেন নি একটা কম্পাস নেয়ার, ভালো একটা ম্যাপ নেয়ার, যে এলাকাগুলোতে যাচ্ছেন সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নেয়ার। ভ্রমণে বের হবার আগে ব্যক্তিগত তহবিলের ২৪০০০ মার্কিন ডলার দান করে দিয়েছিলেন অক্সফাম নামের এক এনজিও-কে যারা দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করে। যেই গাড়িটি নিয়ে বের হয়েছিলেন ঘটনাক্রমে সেটিও এক জায়গায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে চলে যান। বেড়িয়ে পড়ার আগে নিজের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড সব নষ্ট করে ফেলেন। পরিবারের কাউকে বিস্তারিত বলেন নি তার এই অগস্ত্য যাত্রার কথা। দিয়ে যান নি কাউকে কোনো ঠিকানা, পথ চলতে চলতে অনেকের মায়ায়-ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অতিথি গল্পের সেই বালকের মত মায়ার বন্ধন আষ্টে-পৃষ্টে বাঁধার আগেই সবাইকে ছেড়ে মিশে গিয়েছিলেন প্রকৃতির সাথে। কোনো প্রলোভন তাকে টলাতে পারে নি তার অবিচল লক্ষ্য থেকে।

এই সিনেমা জীবন সম্পর্কে  ভাবনার  অনেক খোরাক জোগাবে।
Christopher McCandless এর চরিত্রে Emile Hrishch অনবদ্য অভিনয় আমৃত্যু মনে থাকবে আমার। 

ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৭ এর সেপ্টেম্বরে। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। আর বাস্তব ঘটনাটি মঞ্চায়িত হয়েছিল ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ এর মধ্যবর্তী সময়কালে। ১৪৮ মিনিটের এই মুভিটির প্রত্যেকটি মুহুর্ত মনে দাগ কাটবে। ফিল্ম   টির IMDb ইউজার রেটিং ৮.২।


















Christopher McCandless এর প্রতিকৃতি।
বাসের গায়ে হেলান দেয়া এক সুখী মানুষের ছবি। জীবনের শেষ কয়েকটা দিন  স্টামপেড ট্রেইলে হিচহাইকিং করার সময় এই পরিত্যক্ত বাসে কাটিয়েছিলেন, এখানে স্থাপন করেছিলেন অস্থায়ী ক্যাম্প। নাম দিয়েছিলেন ম্যাজিক বাস। মৃত্যুর কিছুদিন পর তার নিজের ক্যামেরায় এই ছবিটি  অবিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। 

(ছবিগুলো উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত)



০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩
বুনিয়া, ডি আর কঙ্গো

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন