করোনার ( কোভিড-১৯) সংক্রমনে সারা পৃথিবী তটস্থ।
চীনের উহানের পর ইতালি-র অবস্থা খুবই
করুণ! গতকাল ২১শে মার্চ ২০২০ একদিনেই মারা গিয়েছে ৭২৯ জন। এরি মধ্যে মৃতের
সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পৃথিবীর প্রায় ১৮০ টির
বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসের নির্মম ও হীমশীতল স্পর্শ। বাংলাদেশের প্রকৃত
অবস্থা কী তা বলা খুবই কঠিন। আজ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে এখানে আক্রান্তের
সংখ্যা ২৭, মৃতের সংখ্যা ২ এবং সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৫ জন। এই
পরিসংখ্যানে ও তথ্যে সাধারণ জনগণের অনেকের বিশ্বাস নেই। ডাক্তার, সেবিকা
ও স্বাস্থ্য-কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের ভীতির মধ্যে দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
রোগীর চিকিৎসা প্রদানের সময় তাদের প্রয়োজন পিপিই (Personal Protective Equipment) যা তাদেরকে সংক্রামিত
হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রায় হাসপাতালে সেগুলো খুবই
অপ্রতুল। বাংলাদেশের জন্য একটা বিভীষিকাময় ভবিষ্যত যে অপেক্ষা করছে তা বলাই
বাহুল্য।
মানুষের
অজ্ঞতা, ধর্মান্ধতা, দারিদ্র্য, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব, সামাজিক
নিরাপত্তা ইত্যাদি সবকিছুর কারণে বাংলাদেশের জন্য এই মহামারী বড় ধরনের
দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ
করা সত্যিই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র,
যুক্তরাজ্য, চীনসহ অনেক দেশকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের মত একটি গরীব দেশের পক্ষে এই ধরনের অবস্থা সামাল দেয়া কঠিন বটে।
তদুপরি সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক অবস্থাও বড় ধরনের ঝাঁকুনি খেয়েছে। চাকরি
হারাবে কোটি কোটি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরি মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে
এই সমন্বিত ব্যবস্থা গৃহীত না হলে এই মহামারিতে মারা যেতে কয়েক লক্ষ
মানুষ। সত্যিই সারা পৃথিবী আজ নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, মানুষ ঘরে আবদ্ধ হয়ে
আছে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর শহরগুলো আজ যেন এক একটা মৃত্যুপুরী। তবুও মানুষ
আশায় বাঁচে। যে যেভাবে পারছে একে অন্যকে সাহস যোগাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের
বাহবা দিচ্ছে, নিজেদের ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিচ্ছে সারা পৃথিবী। ফেসবুকের
কল্যাণের পৃথিবীর এক প্রান্তের অনুভূতি অন্যপ্রান্ত জেনে যাচ্ছে নিমেষেই।
মার্চ ২২, ২০২০ খ্রিঃ
বনশ্রী, ঢাকা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন