বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

শিক্ষা জগতে একজন আদর্শ নেতার স্বরূপ


ভূমিকা

নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সবাই নেতা হতে পারে না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যককে বিভিন্নভাবে নেতৃত্ব দেয়ার প্রয়োজন পরে। কিন্তু আমরা জানি সবাই এই কাজে সফল হতে পারে না। মাত্র গুটিকয়েক পারে এই ধরনের কাজে এক অনন্য ও অসাধারণ পারদর্শিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে। নেতৃত্বের এই বৈশিষ্ট্য কী জন্মগত না কি ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত হয় তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ আছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে নেতৃত্বের ধরন ও বৈশিষ্ট্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, দিয়েছেন বিভিন্ন তত্ত্ব ও মতবাদ। কিন্তু  পৃথিবীর অধিকাংশ বড় বড় ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বের দিকে তাকালে বুঝতে পারি তারা হয়তোবা নেতা হওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছেন, অন্য কিছু হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হত কিনা তা এখন বলা কঠিন। পৃথিবীতে যুগে যুগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন নেতার আবির্ভাব হয়েছিল, তারা পৃথিবীকে দিয়েছেন অভাবিত শৌর্য, বীর্য, মেধা ও জ্ঞান। তারা পৃথিবীকে প্রগতির দিকে আরেকটু অগ্রসর করে দিয়েছিলেন, মানুষের মুক্তির  ও সম্ভবনার বীজমন্ত্র কানের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন ভালো শিক্ষকের গুণাবলী


ভূমিকাঃ

‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড’ কথাটি বহুলচর্চিত ও আপ্তবাক্য হলেও তা যে সর্বাংশে সত্য সে বিষয়ে দ্বিমত পোষণকারীর সংখ্যা নেহাতই নগন্য। আর এই শিক্ষার সাথে জড়িত বা শিক্ষা-সেবার  সাথে জড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি হলো শিক্ষক-সমাজ। দক্ষ শিক্ষক সমাজ যে-কোনো জাতির জন্য আশির্বাদস্বরূপ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। একজন ছাড়া অন্যজনের অস্ত্বিত্ব প্রায় অর্থহীন বলা চলে। বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে  অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। নিম্ন-মাধ্যমিক স্তরের পরের এবং উচ্চ-মাধ্যমিকের আগের স্তরটিকে মাধ্যমিক স্তর হিসেবে অভিহিত করা হয়। নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই দুই ধাপে তিন প্রকারের শিক্ষাক্রম চালু আছেঃ মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩১৬ টি সরকারি ও ১৬০০৩ টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় ৮৩১০৪৯৭ অধ্যয়নরত আছে। কোনো সন্দেহ নেই এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ-চালক। এদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা আর দেশ-পরিচালনার জন্য দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা সমার্থক। আর এদেরকে সার্বিক অর্থে সম্পদ হিসেবে করে তোলার জন্য চায় একদল আধুনিক, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকগোষ্ঠী।

ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব-২)

নীল নদের উৎস সন্ধানে
মিশরের নীল নদ সম্পর্কে অবগত নেই এমন লোক খুব বিরল। এক অভূতপূর্ব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এই নদীর তীর ঘেঁষে। সেই মিশরীয় সভ্যতা আজো এই পৃথিবীর মানুষের কাছে এক বিস্ময়। নীল নদ সম্পর্কে আমার যেটুকু জ্ঞান তার সবটুকু স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় আহরিত, তাও ছিল অসম্পূর্ণ বা বলা যেতে পারে ভাসা ভাসা।পরীক্ষা পাশের জন্য পড়েছিলাম; আর যে পড়াশুনা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য, সেটার প্রতি একধরনের বৈরীভাব পৃথিবীর অধিকাংশ ছাত্রের মত আমারও ছিল! এই নদীর উৎপত্তি স্থল যে উগান্ডায় সে তথ্য জানলাম যেদিন উগান্ডার মাটিতে আমার প্রথম পা পড়ল

উগান্ডায় এসে নীল নদের উৎস না দেখে যাওয়া একটা বড় বোকামি হবে সাব্যস্ত করলাম। নীল নদকে মনে করা হয় পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী এর আয়তন প্রায় ৬৬৫০ কিমি। এই নদীর জল হাওয়া পেয়ে ধন্য সুদান, বুরুন্ডি, কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া কেনিয়া সহ উল্লিখিত দুটি দেশ। পৃথিবীর অন্য কোনো নদী প্রায় নয়টি দেশের সংস্পর্শে এসেছে কিনা আমার জানা নেই

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঃ সমস্যা ও উত্তরণের উপায়


সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। একাডেমিক গবেষণা, পাঠদান, শিক্ষক-রাজনীতি, ছাত্র-রাজনীতি, শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাতের পাশাপাশি এর উত্তরণের কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কোনো দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে- বিষয়টি উঠে এসেছেআমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার মাননিয়ন্ত্রণে ও কার্যক্রমের তদারকি করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। উচ্চশিক্ষা প্রসারে কমিশনের ইতবাচক পদক্ষেপগুলো আলোচিত হয়েছে। বলা হয়েছে ব্যর্থতাগুলোও। উচ্চশিক্ষা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখে সে-বিষয়ও ফুটে ওঠেছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে দেশের সামগ্রিক বিপর্যয় যে রোধ করা যাবে না তা বিভিন্নভাবে এসেছে। উচ্চশিক্ষায় কেন বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন তারও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা আছে। 

প্রারম্ভিক কথা

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এখানে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা-সংক্রান্ত অত্যন্ত বৃহত এক কর্মযজ্ঞ।  জনসংখ্যার বিশাল এক অংশ অধ্যয়নের সাথে জড়িত -  প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষা-ব্যবস্থাকে সুসংহত রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আরো এক বিশাল পেশাজীবী শ্রেণি। এখানে আমি সে-বিষয়ে বিস্তারিত না ব’লে শুধু উচ্চশিক্ষা বিষয়ে আমার আলোচনাকে সীমিত রাখবো।

ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব ১)

উগান্ডা। আফ্রিকার মুক্তা বা পার্ল অব আফ্রিকা নীল নদের উৎসের দেশ ও। এর রাজধানী কাম্পালা; সাত পাহাড়ের শহর। তবে এই দেশটির পরিচিতি পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে যে ব্যক্তি অপরিসীম ভূমিকা রাখেন তিনি জলপাই রঙের শাসক ইদি আমিন। রাষ্ট্রনায়ক এক ছিলেন বটে। তার শাসনামলে প্রায় লাখ লোক প্রাণ হারায়। কারো কারো মতে এই সংখ্যা লাখের মত। তার স্বৈর-শাসনের ইতিহাস আজো অত্র অঞ্চলের মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে বিরাজমান