শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৫

হোক তবে মৃত্যু

এ- এক অদ্ভূত মৃত্যুপুরী,
চারিদিকে শ্মশানের নীরবতা,
প্রয়াতদের কিম্ভূত অট্টহাস্য; অন্তরাত্মা বিদীর্ণ করা তাচ্ছিল্যের হিমদৃষ্টি,
আয়ুষ্মানদের ভীত আর্ত চোখ,
পলায়নপরতা আর অসহায়তার রোমহর্ষক হাহাকার
বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠা আকুতি বেঁচে থাকার -
হোক জীবন শিয়াল-কুকুরের
তবু ভিক্ষা মাগে জীবনের!

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

প্রতিমাশিল্পঃ প্রেক্ষিত দুর্গাপূজা ২০১৫

দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রতিবছর হিন্দুরা অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে এই উৎসব পালন করেন। বাংলাদেশে এইবারের পূজার স্লোগান ছিল, 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।' তবে প্রতিবছরের মত এবারও বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙার মত ন্যাক্কারজনক কুকর্মের পূনরাবৃত্তি হয়। যদিও বিভিন্ন মন্দিরে উৎসবের কোনো ঘাটতি চোখে পড়ে নি। শেষ দিন পর্যন্ত ছিল পূজোয় অসংখ্য দর্শনার্থী। হিন্দু ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পুজোর উৎসবে সামিল হয়েছেন সোৎসাহে। কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াও সারাদেশে পুজো উদযাপিত হয়। যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানে সাফল্যের জন্য প্রশাসন ও সরকার সকলের কাছে সবিশেষ প্রশংসা অর্জন করেন।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৫

মহাসুখ মন্দির বা স্বর্ণ-মন্দির

 বান্দরবানের সবুজ পাহাড়-অরণ্যের সৌন্দর্যে যখন আমরা আপ্লুত ও মুগ্ধ আমাদেরকে আরো মুগ্ধ করে দিয়ে চোখের সামনে অপূর্ব স্বর্ণকান্তি রূপ নিয়ে হাজির হলো 'মহাসুখ' বা 'বৌদ্ধ ধাতু জাদি মন্দির'। বান্দরবান সদর থেকে আনুমানিক তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বালাঘাট-এর একটা ছোট পাহাড় চুড়ায় এর অবস্থান। চারপাশে সবুজের সমারোহ,  তার মাঝে এই সোনালী মন্দির এক অদ্ভূত আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল।আমরা যখন ট্যাক্সি থেকে নামলাম, উঁচু-তে তাকিয়ে দেখছিলাম সেই সোনালী আভার বিচ্ছুরণ। 
মায়ানমারের জনৈক শিল্পীর ডিজাইনে এই মন্দিরের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে। শুধু স্থাপত্য নির্মাণ শৈলী নয়, বিভিন্ন রকমের বৌদ্ধ মূর্তি, জাতক কাহিনী বর্ণনার জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্মান-শৈলী ও ভাস্কর্য ব্যবহৃত হয়েছে- তা যে-কোনো শিল্প-রসিক-কে ভালো লাগায় প্লাবিত করবে।

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৫

বইয়ের পাতায় আঁকিবুঁকি ২

আগের পর্বে উল্লেখ করেছিলাম আমি সাধারণত নতুন কোনো বই কিনলে সেই বইয়ে নাম লেখার পাশাপাশি সাদা যেই খালি পৃষ্ঠাটি থাকতো তাতে আমার কলমের কিছু আঁচড় পড়ত। এইরকম ছবি আমি বিভিন্ন সময়ে এঁকেছিলাম। প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের মোবাইলে আমরা একটি স্ক্যানার নিয়েও ঘুরতে পারি! মূলত মোবাইল ক্যামেরা এবং কিছু স্ক্যানিং এপ্লিকেশন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে ড্রয়িংগুলো সংরক্ষিত করতে। অন্যদেরকে দেখানোর জন্য যতটা না, তারচেয়ে বেশি হয়তো নিজের জন্য। এখন যদিও খুব একটা আঁকি না, তথাপি এগুলো আমার হারিয়ে যাওয়া শিল্পসত্তা-কে মনে করিয়ে দেয়। আমাকে নতুন করে সৃষ্টিশীল হতে প্রেরণা যোগায়।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি


আফ্রিকা-বাসের বিশেষ করে কঙ্গো-বাসের সময় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল যে জিনিসটি সেটা হলো সেখানকার আবহাওয়া। এত অসাধারণ ভালো-লাগার প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব বেশি জায়গায় মিলবে না। চীনের কুনমিং এ-ধরনের পরিবেশ পেয়েছিলাম, এ-শহরটিকে চির বসন্তের শহর নামে আখ্যায়িত করা হয়। বুনিয়া বা ইতুরি কিংবা আরো ব্যাপকভাবে বললে ওরিয়েন্টাল প্রদেশ-কে চির-বসন্তের নামে আখ্যায়িত করার তথ্য কোথাও পায় নি। যদিও আবহাওয়া তথাকথিত চিরবসন্তের স্থানগুলোর চেয়ে কোনোভাবেই অশ্রেয়তর বলা যাবে না। 
বই-পুস্তকে ঐ অঞ্চলের জলবায়ু বা আবহাওয়া সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সে-সব তথ্য ঘাটার সুযোগ হয় নি, কিংবা তেমন দরকারও বোধ করি নি। টানা তিন বছর এক এলাকায় বাস করার কারণে সেখানকার আবহাওয়া জানার জন্য বইয়ের তথ্যের খুব দরকার আছে বলে মনে হয় নি। তবে জলবায়ুর যে বৈশ্বিক পরিবর্তন প্রতিনয়ত পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে আমার দেয়া তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা হয়তো বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। কাজেই রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করতে চাইলে আমার বলা কথাগুলোকে ‘২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যকার সময়ে ইতুরি অঞ্চলের আবহাওয়াঃ একজন প্রত্যক্ষদর্শী-র বিবরণ’ হিসেবে সাব্যস্ত করলে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবো।

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৫

প্যারিসের পথে পথে

প্রথম প্যারিসের ভ্রমণের স্মৃতি যখন মনে পড়ে এক অন্যরকম ভালোলাগায় মন যেমন ছেঁয়ে যায়, তেমনি এক অতৃপ্তি ও অপূর্ণতার হাহাকার ভরা দীর্ঘশ্বাস মনের অজান্তেই বেড়িয়ে পড়ে। এক অদ্ভূত অস্থিরতা কাজ করছিল প্যারিস ভ্রমণের প্রাক্কালে। অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল প্যারিস ঘুরতে যাবো। শিল্পের নগরী, সৌন্দর্যের নগরী প্যারিস-এ আসাটা ভেবেছিলাম স্বপ্নেই থেকে যাবে। সেই স্বপ্ন যখন বাস্তবে পরিণত হয়েছিল একটু অবিশ্বাস্য লেগেছিল বৈকি! একটা অস্থিরতা কাজ করছিল নিজের মধ্যে। কী করবো দিশে পাচ্ছিলাম না। চারপাশ দেখছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি, কিন্তু  কিছুই যেন দেখছি না! এ- এক অদ্ভূত অনুভূতি! আমি নিজের মধ্যেই ছিলাম না কয়েকটা দিন। কোনো প্ল্যান করতে পারছিলাম না ঠাণ্ডা মাথায়। ছবি তুলছি, দেখছি, সুযোগ পেলে কথা বলছি মানুষজনের সাথে, শিশুর মত কৌতুহল নিয়ে দেখছি চারপাশ, সবই স্বাভাবিক, কিন্তু আমি জানি এরপরেও আমার মধ্যে কাজ করছিল একটু অন্যরকম অস্বাভাবিকতা, যেটা আমি জানি কারো কারো  মধ্যে এই অদ্ভূত আবেগ কাজ করতেই পারে, হতে পারে সেটা প্রথম প্রেমের বেলায়, কিংবা অবিশ্বাস্য কিছু যখন ঘটে, অপ্রাপনীয় কিছু যখন পেয়েে যায়, এই বিহ্বলতা থেকে সহজে মুক্তি মেলে না অনেকের। অসাধারণ, কিংবা বহু আরাধ্য কিছু পেয়ে গেলে আমাদের বাহ্যজ্ঞান কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেতেই পারে! আর আমি সেই রকম কিছু থেকে বাদ যাবো, সেটা কিছুটা অলীক হতেই পারে!

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

ঘোর লাগা মুভিঃ ইন্টারস্টেলার


সায়েন্স ফিকশন যদি হয় মহাবিশ্ব নিয়ে তাহলে সেটার প্রতি আমার মুগ্ধতা আগে থেকেই তৈরি হ'য়ে যাবে! এটা এমন একধরনের মুগ্ধতা, যুক্তিবাদী মন সেখানে বেশি ঝামেলা করবে না। 'গ্র্যাভেটিমুভিটি দেখেছিলাম ব্লকবাস্টার, যমুনা ফিউচার পার্কে। মুভিটি খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায় নি, মানে ইন্টারস্টেলার- এর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আমি ফিজিক্স কিংবা এস্ট্রোফিজিক্স ভালো বুঝি না, সেই আমার কাছেও অনেক বেশি গাঁজাখুরি মনে হয়েছে, আরো একটু যত্ন দিয়ে কাহিনীটি নির্মাণ করা যেত, আরো বিশ্বাসযোগ্য হতে পারত গল্পটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পটি শিশুতোষ ও অতিমাত্রায় নাটকীয়তায় পর্যবাসিত হয়। কিন্তু যতক্ষণ মহাশুণ্যে ভাসছিল কৃত্রিম উপগ্রহগুলি, সেগুলো থেকে ছিটকে পড়ছিল নভোচারীরা, ভেসে বেড়াচ্ছিল অন্তহীন মহাশূণ্যে- ততক্ষণ এক অদ্ভূত শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল আমার ভেতর। শুধু ঐ দৃশ্যগুলি যে অনন্য অসাধারণ মোহময়তা তৈরি করছিল আমার ভেতর, ভালোলাগায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিল আমাকে তাতেই আমার সন্তুষ্টি। আমার কোনো খেদ আর তৈরি হয় নি, সময়ের অপচয় মনে হয় নি একটুও।

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫

তুরস্কের কার্পেট-শিল্প

সাতদিনের একটা প্যাকেজ-ট্যুর নিয়ে কাপাডোকিয়া গিয়েছিলাম।ইস্তানবুল থেকে প্রায় ৭/৮ ঘন্টার বাস জার্নি। বাস ভ্রমণটা ভালোই হয়েছিল। তুরস্কের রাস্তাঘাট ভালো। উন্নতমানের বাস আছে। কাপাডোকিয়ায় যখন পৌঁছলাম তখন সকাল। অদ্ভুত ভালোলাগায় মন আচ্ছন্ন। মন বলছে একটা চমৎকার ভ্রমণ আমার অপেক্ষায় আছে।

ভ্রমণটা বেশ মনে রাখার মত হয়েছিল। অনেকগুলো জায়গা ঘুরে দেখেছিলাম। ভ্রমণ কোম্পানিটি বেশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের গাইড-টিও ছিলেন বেশ ভালো। কাছাকাছি জায়গায় আমরা বেশকিছু প্রাচীন নিদর্শন ঘুরে দেখি।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

লেক ভিক্টোরিয়ার স্মৃতি

লেক ভিক্টো্রিয়া
 আমার সবচেয়ে প্রিয় লেকসমূহের কথা যদি বলতে হয় তাহলে সর্বাগ্রে নাম আসবে উগান্ডায় অবস্থিত 'লেক ভিক্টোরিয়া-র।' আমার একান্ত কাটানো অসংখ্য স্মৃতি যেমন আছে তেমনি দলবেঁধে হৈ-হুল্লোর করার ঘটনাও বিরল নয়।উগান্ডায় সাধারণত আমরা ছুটি বা আর-এন-আর-এ (R&R: Rest and Recreation) আসতাম। কঙ্গো-তে কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত, একঘেঁয়েমি তাড়ানোর জন্য আমাদের প্রিয় স্থান ছিল উগান্ডা। উগান্ডা-তে যুদ্ধ নাই, আমাদের দৈনন্দিন মিশন-সম্পর্কিত দুর্ভাবনা নাই, মিটিং নাই, কনফারেন্স নাই, পিটি নাই, গেমস নাই; বলা যেতে পারে যা আছে একান্ত নিজের কিছু ব্যক্তিগত সময়।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫

পাহাড় আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে

হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত। দেশে টানা কয়েকমাসের অবরোধ চলছিল। আন্ত-জেলা যোগাযোগ-ব্যবস্থা কার্যত অচল। আমি আফ্রিকা থেকে দেশে এসে গৃহবন্দি। তথাপি এই দুর্যোগের মধ্যে কীভাবে যেন বিয়েটা করে ফেললাম! এইবার তো ডাবল বন্দী! মন আঁকুপাঁকু করছিল। কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
অবশেষে বিএনপি-জামাতের অবরোধ শিথিল হলো কী একটা কারণে যেন। ভাবলাম এই সুযোগ। বেরিয়ে পড়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। অনেক ভেবচিন্তে দেখলাম এই মুহুর্তে ভ্রমণের জন্য বান্দরবান হতে পারে আদর্শ জায়গা। বউকে আধাঘন্টা সময় দিলাম, জানি দু-ঘন্টা লাগাবে। কিন্তু এক ঘণ্টা সময় দিলে তো চার ঘণ্টা লাগাতো!